আরও ভয়ঙ্কর রূপে পর্দায় ফিরেও কেন অঘটন ঘটালো “মেগান 2.0” ?

সিটিভি নিউজ@ মিডিয়া জগতঃ ২০২৩ সালে স্বল্প বাজেটে নির্মিত বিজ্ঞানভিত্তিক হরর ঘরণার চলচ্চিত্র ‘ মেগান ’ বক্সঅফিস ও দর্শক মনে যে ঝড় তুলেছিল। ২০২৫ সালে এর ২য় কিস্তিটি সেইভাবে দর্শক মনে জায়গা করে নিতে পারে নি। স্বল্প বাজেটে নির্মিত প্রথম পর্বের অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্যের পর, দ্বিতীয় কিস্তিটি নিয়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ ছিল, কিন্তু দ্বিগুণ অর্থ খরচ করেও বক্স অফিসে এটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে সক্ষম হয়নি।
১ম কিস্তিতে “ মেগান ” নামক একটি রোবট তৈরী করা হয় যা পরিচালিত হত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে। যার ফলে, তাকে যার রক্ষাকর্তা হিসেবে নির্মাণ করা হয়, তার জন্য সে বিধ্বংসী হয়ে উঠে, একের পর এক অঘটন ঘটাতে শুরু করে। ফলাফল সিনেমার শেষ অংশে ‘মেগান’কে তার কৃতকর্মের জন্য শাস্তিস্বরূপ সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
কিন্তু, ‘মেগান’-এর যাবতীয় প্রোগ্রাম কোডিং ক্লাউডে সেভ থাকার কারণে তা চুরি করে এক সামরিক ঠিকাদার তৈরী করে ‘অ্যামিলিয়া’ নামক নতুন কিন্তু আরও উন্নত প্রযুক্তির আপডেট ভার্সনের শক্তিশালী রোবট।
‘অ্যামিলিয়া’ এতটাই উন্নতমানের ছিল যে, তাকে যেই ঊদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং তাকে যে নিদের্শনা প্রদান করা হত তা সে নিজ থেকে মুছে ফেলত এবং নিজের মত করে নিজেকে আপডেট করে নেয়। সে তার ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে থাকে। এককথায়, সে আর তার নির্মাতাদের কোন নির্দেশ (Command) মানছে না। ফলাফল, ধীরে ধীরে তার তান্ডবলীলা বাড়তে থাকে আর জনজীবনের জন্য ভয়ঙ্কর ও বিপদজনক হয়ে উঠে।
তাকে থামানোর একমাত্র চাবিটি ছিল জেমার হাতে। জেমা; যে মেগানের কোডিং ও শারীরিক অবয়ব নির্মাণ করে এবং সময়ের সাথে সাথে মেগান ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলে তাকে ধ্বংস করে দেয়।
জেমা ভাল করে জানে, অ্যামিলিয়াকে মোকাবেলা করার জন্য মেগানকে আরও উন্নত শারীরিক গঠন, ক্ষীপ্র গতি সম্পন্ন ও দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মত করে পুণঃনির্মাণ করতে হবে।
কিন্তু এবার তার (মেগান) ভূমিকা আগের মতো সরাসরি শত্রুতা নয়; ক্যাডি ও জেমাকে রক্ষা করাও তার গুরুত্বপূর্ণ ঊদ্দেশ্য হয়ে ওঠে।
এখানেই সিনেমাটি একটি নতুন প্রশ্ন সামনে আনে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি শুধু মানুষের নির্দেশ অনুসরণ করবে, নাকি অভিজ্ঞতা ও শেখার মাধ্যমে নিজস্ব সিদ্ধান্তও নিতে শুরু করবে?
গল্পের এই পর্যায়ে জেমা ও তার দল ‘অ্যামিলিয়া’র কার্যক্রমের পেছনে কার হাত আছে, তার অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ‘ক্রিশ্চিয়ান’ নামের এক ব্যাক্তি। এটা সেই ব্যাক্তি যে প্রকাশ্যে জেমার সাথে সর্বক্ষণ প্রযুক্তির উন্নতি নিয়ে কথা বলত। কিন্তু পেছনে তার আসল ঊদ্দেশ্য ছিল; ‘অ্যামিলিয়ার’ মাধ্যমে তান্ডবলীলা চালিয়ে জনমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়িয়ে প্রযুক্তির অগ্রগতিকে থামানো।
গল্প এগিয়ে যেতে থাকে, এক পর্যায়ে ‘অ্যামিলিয়া’কে থামাতে এসে জেমা ও ক্যাডি দু’জনেই পড়ে বিপদের মুখে। মেগান অ্যামিলিয়াকে থামানো ও তাদের দু’জনকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ান ও অ্যামিলিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা পরিস্থিতিতে আরও ঘোলাটে করে তুলে।
শেষ পর্যায়ে এসে অ্যামিলিয়া আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। এক সময় সে উপলব্ধি করে, সে নিজে থেকে তার আত্মরক্ষা করতে পারে। তাকে আর কারও নির্দেশনা মানার প্রয়োজন নেই, ফলাফল এতদিন সে যার নির্দেশ মত কাজ করে আসছিল সেই ক্রিশ্চিয়ানকে খুন করে ফেলে। অ্যামেলিয়া একটি উন্নত কম্পিউটার মাদারবোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও ব্যাপক প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অর্জন করে। তখন তাকে থামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
মেগান বুঝতে পারে, অ্যামেলিয়াকে থামাতে হলে তাকে বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে হবে। জেমা মেগানের নতুন শরীরে একটি বিশেষ আত্মবিনাশী ব্যবস্থা যুক্ত করেছিলেন, যাতে প্রয়োজন হলে তাকে থামানো যায়। গল্পের শেষে অ্যামিলিয়া ও মেগান দু’জনেই শক্তির লড়াইয়ে মেতে উঠে এবং সুযোগ বুঝে মেগান অ্যামিলিয়াকে কাবু করে সেই আত্মবিনাশী ব্যবস্থা সচল করে, বিশাল বড় বিষ্ফোরণের মাধ্যমে দু’জনেই ধ্বংস হয়ে যায়।

ব্যর্থতার কারণঃ
সিনেমাটির ব্যর্থতার কয়েকটি কারণে মধ্যে ১টি হলো গল্পে দুর্বলতা। অ্যামেলিয়া, সামরিক প্রযুক্তি, গোপন পরিকল্পনা, বৃহৎ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বব্যাপী বিপদের মতো একাধিক উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করায় গল্পের মূল ভিত কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে বলে সমালোচকদের মনে করেছেন।
প্রথম কিস্তিতে মেগান’কে আতঙ্কের উৎস হিসাবে দেখালেও ২য় কিস্তিতে এসে তাকে দেখা যায় রক্ষাকারীর চরিত্রে। এই পরিবর্তন গল্পকে নতুন দিক দিলেও প্রথম ছবির ভৌতিক আকর্ষণ খুঁজে পাওয়া দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়।
২০২৫ সালে ছবিটিকে আরও কিছু বড় বাজেটের ছবির সাথে প্রতিযোগীতা করতে হয়, ফালফল প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয় “মেগান 2.0”।
ছবির বাজেটও ব্যর্থতার আরেকটি কারণ হিসেবে দেখায় হয়। ১ম কিস্তির চাইতে ২য় কিস্তিতে বাজেট ছিল বিশাল, বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে ছবিটির আয়ের সাথে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি হয়।
দিনশেষে বলা যায়, ১ম কিস্তিটি দর্শক জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকলেও ২য় কিস্তিটি ছিল দর্শকের পছন্দের বাইরে। ৩য় কিস্তিতে কি ‘মেগান’ তার পুরানো জৌলসে ফিরে আসতে পারবে, না কি ২য় কিস্তির অজনপ্রিয়তাকেই পুঁজি করে আটকে যাবে। তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন