শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্টর দায়িত্বশীল বৈঠকে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি সেক্টরে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান ===============দেশের বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সেক্টরে দক্ষ ও প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, নেতৃত্বের অভাবে শ্রমিকের অনেক সেক্টর পিছিয়ে পড়ছে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি সেক্টর থেকে নিজস্ব নেতৃত্বকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে হবে। পাশাপাশি সংগঠনকে মাঠমুখী ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি, নিয়োগপত্র, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেক্টর দায়িত্বশীল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন অনিবার্য’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ বৈঠকে সেক্টরের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, গোলাম রব্বানী, মাস্টার শফিকুল আলম, কবির আহমদ ও মজিবুর রহমান ভূঁইয়া সহ সেক্টরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
আতিকুর রহমান বলেন, দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সক্রিয়তার কারণে সরকার ও মালিকপক্ষের ওপর জবাবদিহির চাপ রয়েছে। ফলে এ খাতের শ্রমিকেরা কিছুটা হলেও অধিকার আদায় করতে পারছেন। কিন্তু পরিবহনসহ প্রায় ৫০টি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকেরা এখনো বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার শিকার। এসব খাতের শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিবহন শ্রমিকদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতের বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের চাকরির নিরাপত্তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হয় না। একজন চালককে টানা ১৬ থেকে ২১ ঘণ্টা গাড়ি চালাতে বাধ্য করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বেই। দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালককে দায়ী না করে তাঁকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও বিকল্প চালকের ব্যবস্থা না দেওয়ার ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের দায়ও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মচারীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকেরা এখনো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এ বৈষম্য দূর করতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা, চাকরির নিরাপত্তা এবং অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি সেক্টরের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠিতভাবে কাজ করা জরুরি।
শ্রমিকদের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যা জানতে হবে, তাঁদের পক্ষে কথা বলতে হবে এবং অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সভা-সমাবেশ, সেমিনার, লেখালেখি ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শুধু সাংগঠনিক পদে থাকলেই হবে না, দায়িত্বশীল নেতারা শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে গিয়ে তাঁদের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন।
তিনি জানান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বিভিন্ন সেক্টরে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার ও সম্প্রসারণ সহ সেক্টর নেতাদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিটি সেক্টরে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নেতাদের।
আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনকে আরও দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য শ্রম আইন, বিধিমালা ও শ্রম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রতিটি সেক্টর নেতাদের নিজ নিজ পেশার শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
এতে করে সেক্টর সুসংগঠিত হবে এবং শ্রমিক সংগঠনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি সহ শ্রমিক আন্দোলনে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম ও ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নেও অগ্রগতি সম্ভব হবে। সংবাদ প্রকাশঃ ২৮-১০-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন