ব্রাহ্মণপাড়ায় তীব্র যানজটে দুর্ভোগ সাধারণ মানুষ

সিটিভি নিউজ।। মোঃ আবদুল আলীম খান সংবাদদাতা ==========কুমিল্লা- ব্রাহ্মণপাড়ার প্রধান সড়কের ব্রাহ্মণপাড়া অংশে ড্রেন নির্মাণ, সিসি ঢালাই এবং সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে চরম ধীরগতির কারণে প্রায় এক বছর ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় অধিবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা। সংস্কার কাজের ধীরগতি এবং গত বন্যার প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় খানাখন্দের কারণে সড়কটিতে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে বাধ্য হয়ে স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগেই কিছু অংশ চলাচলের যোগ্য করে তোলেন। অথচ পাশ্ববর্তী বুড়িচং অংশ পর্যন্ত সিসি ঢালাই ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেও রহস্যজনকভাবে ব্রাহ্মণপাড়া অংশটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকেই ব্যস্ততম এই সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মিনিট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ড্রেন নির্মাণের জন্য খোড়াখুড়ি করা হলেও কাজ শেষ না করায় রাস্তা ছোট হয়ে গেছে, যার ফলে সামান্য পথ অতিক্রম করতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।
উক্ত সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী আবু হানিফ আক্ষেপ করে বলেন, “প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে এই রাস্তায় যাতায়াত করতে হয়। সামান্য ১৫ মিনিটের পথ পার হতে এখন ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। ধুলোবালি ও যানজটে পুরো শরীর ও মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে, কিন্তু শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।”
আরেক নারী যাত্রী কোহিনূর আক্তার বলেন, “গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী কিংবা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য এই রাস্তায় চলাচল করা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেন ও রাস্তার খানাখন্দের কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সরকারের অতি দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
যানজট ও খানাখন্দের বিষয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মিজানুর রহমান বলেন, “রাস্তার যে অবস্থা, তাতে আমাদের গাড়ির পার্টস নিয়মিত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে গ্যাস খরচই ওঠে না, মহাজনের জমা দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে।”
একই ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুল মতিন বলেন, “ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ি চালানো অনেক কষ্টকর। রাস্তা পার হতে গিয়ে উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে আমাদের রুজি-রোজগার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সিসি ডালাই ও সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলাকালীন সাময়িক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুতের খুঁটির কারণেও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংস্কার ও ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে সড়কটি জনগণের চলাচলের উপযোগী করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।”
দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় বাসিন্দারা অনতিবিলম্বে সড়কের বাকি অংশ ঢালাই এবং ড্রেন নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ প্রকাশঃ ২৭-০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=