কুমিল্লাঃ ফৌজদারি আইনে শিক্ষা বোর্ডের প্রথম মামলা – চেয়ারমান‍্যান কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নঃ সেই আলোচিত শিক্ষক শিক্ষার্থী গ্রেফতার

সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি/ =================
কুমিল্লা দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিজে মূল‍্যায়ন না করে এক দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী দিয়ে মূল‍্যায়নের অভিযোগে কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলার হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।একই ঘটনায় উত্তরপত্র মূল‍্যায়নে সহায়তার অভিযোগে ওই বিদ‍্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে ওই ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লা এর উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তার শনিবার (১১ জুলাই) দেবীদ্বার থানায় হাজির হয়ে হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: বাচ্চু মিয়া (৫৫), ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৫)কে অভিযুক্ত করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। ওই এজাহারের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানায় ”পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ধারা ১০, ১২ এবং ১৩ ধারায় এ মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং-০৮, তারিখ- ১১/০৭/২০২৬ইং।

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এর চেয়ারম‍্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ রবিবার বিকেলে জানান, এ ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক এবং শিক্ষক সমাজের জন‍্য কলঙ্কজনক। যিনি এ গর্হিত কাজটি করেছেন তা দায়ীত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এ জাতীয় কাজের যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন‍্য গোটা শিক্ষক সমাজের জন‍্য সতর্কতা মূলক “পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ধারা ১০, ১২ এবং ১৩ ধারায় ফৌজদারি আইনে এ মামলা রুজু করা হয়। যে মামলাটি বাংলাদেশে প্রথম। যদিও এ আইনটি আগেও ছিল কিন্তু কার্যকরের হয়নি, বোর্ড কর্তৃপক্ষ তার নিজস্ব পাবলিক পরীক্ষার অপরাধ আইনে সাজা প্রদান করা হত।

প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ আরো বলেন, আজ মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী আনম এহসানুল হক মিলন মহোদয় এক প্রেস ব্রিফিং-এ সকল শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা এবং পরীক্ষকদের সতর্ক করে বলেন, দেবীদ্বারের এক শিক্ষকের তার খাতা দেখাচ্ছিল ছাত্র দিয়ে, গতরাত ২ টায় তাকে এরেস্ট করা হয়েছে, তার মানে একটি অপকর্মও আমরা ছার দেবনা। প্রত‍্যেকটি ঘটনা আমরা মনিটরিং করছি।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লা এর উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তার কর্তৃক মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে দেবীদ্বার সার্কেল এএসপি মো. শাহীন এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), দেবীদ্বার থানা পুলিশ যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) বিবাদী মো: বাচ্চু মিয়া (৫৫) ও মেহেদী হাসান (১৫)কে গ্রেফতার করে রবিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল ৪ টায় দেবীদ্বার সার্কেল সিনিয়র এএসপি মো. শাহীন দেবীদ্বার থানায় এক প্রেস ব্রিফিং এ সাংবাদিকদের এসব তথ‍্য জানান। সার্কেলল এএসপি মো. শাহীন বলেন, মূলত পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অননুমোদিত ব্যক্তি এবং অপরাধে সহায়তাকারীদের শাস্তির বিধান করে। অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট থানায় এই আইনের অধীনে মামলা (রুজু) করা হয়। তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে অপরাধ দমনে এ ঘটনাটি শিক্ষক সমাদের জন‍্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।

উল্লেখ‍্য গত ২৩ জুন হাজী আমির উচ্চ বিদ‍্যালয়ে শিক্ষকের বোর্ড পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল‍্যায়নে দশম শ্রেণীর এক ছাত্র নম্কাব দেওয়ার সময় অপর এক ছাত্র ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে সর্বমহলে তোলপাড় শুরু হয়। যার প্রেক্ষিতে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক মামলা দায়েরে ওই শিক্ষক গ্রেফতার হন।

দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(তদন্ত) মো. ইমাম হাসান বলেন, আসামীদ্বয়কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অত্র মামলার এজাহারে বর্ণিত অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেন। অদ্য ১২/০৭/২০২৬ইং তারিখ বিবাদীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত ।
ছবির ক‍্যাপশনঃ দেবীদ্বারে আটক আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‍ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া(৫৫) এবং বোর্ড খাতা মার্কিং করা দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান(১৫)’র ছবি। সংবাদ প্রকাশঃ ১২-০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন