নৌযান শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বত্র সংগঠন গড়ে তোলতে হবে– লসকর মোঃ তসলিম

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জাতীয় নৌযান ও লোড-আনলোড সেক্টরের নৌযান শ্রমিক দায়িত্বশীল সমাবেশে]
সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান ======= “নৌযান শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বত্র সংগঠন গড়ে তোলতে হবে”
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জাতীয় নৌযান ও লোড-আনলোড সেক্টরের নৌযান শ্রমিক দায়িত্বশীল সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন লসকর মো. তসলিম।
নৌসেক্টরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, হযরত নূহ (আ.) দীর্ঘ ৯৫০ বছর দাওয়াতি প্রচেষ্টার পর মহান আল্লাহর নির্দেশে নৌযানের মাধ্যমে মানবজাতি ও অন্যান্য সৃষ্টিকে রক্ষা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক প্রেরণা ধারণ করেই নৌযান শ্রমিকদের কল্যাণ, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নৌযান শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এ খাতের শ্রমিকরা এখনও নানা সমস্যার মুখোমুখি। তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নৌযান শ্রমিকদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা লিপিবদ্ধ এবং সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত বিস্তৃত। চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ৫৪টি নৌঘাট ও পয়েন্ট রয়েছে। এছাড়া সারা দেশে অসংখ্য নৌঘাট, ফেরিঘাট, নদীবন্দর, লঞ্চঘাট ও টার্মিনাল রয়েছে। একসময় দেশের প্রায় ২০০টি নৌরুটে ৭৩৯টি নৌযান চলাচল করত এবং বছরে প্রায় ৯০ মিলিয়ন যাত্রী ও ২০ মিলিয়ন টন পণ্য নৌপথে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ২০ লাখ নৌ-পরিবহন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
সমাবেশে নৌখাতের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের স্বার্থে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— নৌকা ও জাহাজকে পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা; নৌশ্রমিকদের পেশাকে সম্মানজনক মর্যাদা প্রদান; পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা; এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌযান চলাচলের স্বার্থে নৌরুট সম্প্রসারণ ও নদীর নাব্যতা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে লসকর মো. তসলিম বলেন, এ আন্দোলনে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দুইজন নারীসহ ১৪৯ জন শ্রমিক শহীদ হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক শ্রমিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তি—উভয় লক্ষ্য সামনে রেখেই শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নৌপরিবহন খাতের প্রায় ২০ লাখ শ্রমিককে সংগঠনের আওতায় আনতে হবে। যেখানে নৌশ্রমিক রয়েছে, সেখানেই ডি-ফরম পূরণ করে কমিটি গঠন এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠিত করতে হবে। পাশাপাশি অসহায়, রোগাক্রান্ত ও বিপদগ্রস্ত নৌশ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা সর্বস্তরের নৌযান শ্রমিক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায়সংগত অধিকার আদায়, শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলা এবং ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান।
শনিবার (৪ জুলাই) শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি খলিলুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নৌসেক্টরের নেতা বেলাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ইকবাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন জেলার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। সংবাদ প্রকাশঃ ০৫-০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=