ইতিহাস বাঙালি জাতি তাকে ক্ষমা করবে না! ওসি প্রদীপের অবৈধ আয়ের পাপের টাকায় ফুর্তি করে বেড়াচ্ছে স্ত্রী চুমকি

সিটিভি নিউজ।। খন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি ঃ ======কক্সবাজারের টেকনাফের ওসি প্রদীপের নাম শুনলেই আতংকে থাকতো সাধারন মানুষ, অস্ত্রের,ভয় দেখিয়ে তুলে আনতেন যাকে তাকে। টাকা দিলে ছাড়া পেতেন কেউ কেউ। টাকায় বনিবনা না হলে মাদক কারবারি দেখিয়ে কথিত বন্দুক যুদ্ধে শেষ করে দিয়েছেন অনেকের জীবন।
এই ওসি আর কেউ নন, তিনি ওসি প্রদীপ কুমার দাস। যিনি এখন মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে নির্জন প্রকোষ্ঠে বন্দি। মেজর সিনহা খুনে প্রদীপকে দীর্ঘদিন কারাগারেও দেখতে আসে না কেউ। যে স্ত্রীর জন্য বিভিন্ন অপরাধ করে সম্পদের পাহাড় গড়েছিল, সেই স্ত্রীও এখন ছাড়া পেয়ে ফুর্তি করে বেড়াচ্ছে। আর প্রদীপ দিন গুনছে ফাঁসির দড়িতে ঝোলার। চরম উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় কাটছে এই কুলাঙ্গারের প্রতিটি মুহূর্ত।
নাম যেমন প্রদীপ কুমার, নামের প্রতি তার সুবিচারও ছিল বেশ। একটা সময় ছিল যখন ওসি প্রদীপের চারদিকে ছিল শুধু আলো আর আলো। অবৈধ সম্পদে গড়া টাকায় বিছানায় ঘুমাত সে। সে প্রদীপ অবশ্য এখন নিভে গেছে। প্রদীপের চারপাশে এখন শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার। কারাগারের চার দেওয়ালে আটকা প্রদীপ এখন যেন দিনের আলো চোখে দেখেন না।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি প্রদীপ আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন। সমালোচিত ছিলেন একের পর এক ক্রসফায়ার আর কঠোরতার জন্য। টেকনাফে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওসি প্রদীপ গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। একই কারাগারে রয়েছেন পরিদর্শক লিয়াকত আলীও। প্রথমে জেল কোড অনুযায়ী ওসি প্রদীপ ডিভিশন সুবিধা পেতেন। তবে রায়ের পর, অর্থাৎ ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় ডিভিশন সুবিধা বাতিল হয়ে যায় প্রদীপের। বর্তমানে সাধারণ কয়েদিদের মতোই থাকছেন ওসি প্রদীপ।
এদিকে প্রদীপের দুর্নীতির টাকা রক্ষা করতে গিয়ে ফেঁসে যান তার স্ত্রী চুমকি। দুর্নীতির মামলায় ২১ বছর দণ্ডিত হয়ে তিনিও কারাগারে ছিলেন। তবে গত ডিসেম্বরে প্রদীপ কুমার দাসের সাজাপ্রাপ্ত স্ত্রী চুমকিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে চুমকিকে ২১ বছর কারাদণ্ড দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আব্দুল মজিব। জানা গেছে, জামিন পেয়ে স্ত্রী চুমকি আর স্বামীর খোঁজ নেন না।
কারা সূত্র বলছে, মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে কারাগারে দিন পার করছেন ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলী। রাত-দিন অনেকটা শুয়ে-বসেই দিন কাটছে তাদের। তবে এত অপকর্মের পরেও তাদের মধ্যে কোনো অনুতাপ দেখা যাচ্ছে না। ফাঁসি হবে, এই খবর জানার পর থেকে অনেকটাই চুপচাপ থাকেন প্রদীপ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, এখনো ওসি প্রদীপ আশা নিয়ে আছেন যে ফাঁসির চূড়ান্ত রায়ে তিনি খালাস পাবেন। তার সঙ্গে যেসব বন্দি আছেন, তাদের কাছে মাঝে মধ্যে আক্ষেপ করেন। তার শঙ্কা, আদালতের সব শেষ রায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে।
যেহেতু কেউ তাকে কারাগারে দেখতে আসে না, তাই তার জন্য খাবার-দাবারও আনার প্রশ্নই আসে না। কারাগারে সবাই যা খায়, প্রদীপও তাই খেয়েই বেঁচে আছে। সিনিয়র জেল সুপার বলেন, স্বাভাবিক নিয়মে মাসে একবার সাক্ষাৎ করতে পারবেন কয়েদির আত্মীয়রা, তবে ওসি প্রদীপের কোনো আত্মীয় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন না।
গত মাসে মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রদীপ কুমার দাসের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর ও তার সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে কক্সবাজারের টেকনাফের সাধারণ নাগরিক ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
**প্রদীপের অপকর্ম**
দুর্নীতি ও নানা অপকর্ম করে স্ত্রী-সন্তানের জন্য সম্পদের পাহাড় গড়েছিলেন প্রদীপ কুমার দাস। ক্ষমতার জোরে সদবন রত্না বালা প্রজাপতির বাড়ি পর্যন্ত দখল করে নিয়েছিলেন তিনি। ও তার স্ত্রী চুমকির নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যবসা সহ সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য পায় দুর্নীতি দমন কমিশন।
সিনহা হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সিনহা গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে ঘুরে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য বিভিন্ন স্থানের প্রামাণ্য চিত্র ধারণ করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে ২০২০ সালের ৭ জুলাই কক্সবাজারে রামু থানাধীন হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টের একটি কটেজে ওঠেন।
তখন ওসি প্রদীপ বাধা দেন। ওসি প্রদীপ বলেন, তিনি মেজরের ধার ধারেন না। তিনি বহু সাংবাদিককে পিটিয়েছেন, জেলে পাঠিয়েছেন। এ সময় প্রদীপ সিনহাদের ভয়ভীতি দেখান, হুমকি দেন এবং কক্সবাজার ছেড়ে যেতে বলেন।
এরপর সিনহা টেকনাফে একই ধরনের প্রামাণ্যচিত্র ধারণ শুরু করেন। তখন ওসি প্রদীপের মাদক নির্মূলের নামে টেকনাফ থানায় নিরীহ মানুষের উপর নির্যাতন নিপীড়নের তথ্য জানতে পারেন। নির্যাতনের শিকার অনেক ভিকটিম পরিবারের সদস্য সিনহা এবং তার সহযোগীদের কাছে প্রদীপের অত্যাচারের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
এসব কাজের এক পর্যায়ে ওসি প্রদীপের সঙ্গে সিনহা, শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাতের দেখা হয়ে যায়। তখন তাদের সঙ্গে ক্যামেরা সহ ভিডিও ধারণের সরঞ্জাম ছিল। তারা ওসি প্রদীপের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। তখন প্রদীপ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাদের এ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। প্রদীপ তাদের হুমকি দিয়ে বলেন, ইন্টারভিউ ভিডিও চিত্র বানিয়ে ইউটিউবে প্রচার করে তার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে মেজর সাহেব ও তাদের ধ্বংস করে দেবেন।
এসব অপকর্মের বিষয়গুলো প্রচার হলে তার চাকরির বিরাট ক্ষতি হবে অনুমান করে বিষয়টি তিনি বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মোহাম্মদ লিয়াকত আলীকে জানান। এরই ধারাবাহিকতায় টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ।
জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে পুলিশে যোগ দেন প্রদীপ কুমার দাস। চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় কর্মরত থাকার সময় ২০০৪ সালে এক নারীর জমি দখলের ঘটনায় বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি। পরে কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় উপপরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। এরপর জেলার মহেশখালীতে ও সর্বশেষ টেকনাফের ওসি হিসাবে দায়িত্ব পান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রদীপ টেকনাফের ওসি থাকাকালীন ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে কমপক্ষে ১৪৫ জন মানুষ। সিনহা হত্যার ঘটনার পর ২০২০ সালের আগস্টে কারাগারে যাওয়ার পর ওই বছরের ১২ আগস্ট থেকে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের আদালতে ১২ টি মামলায় ১৫ টি হত্যার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। বাঙালি জাতি ইতিহাস তাকে ক্ষমা করবে না। দেশবাসী তার ফাঁসির অপেক্ষায় আছে। সংবাদ প্রকাশঃ ১৯-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন