কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শয্যাসংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে: মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী

সিটিভি নিউজ24 ।। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বিদ্যমান অবস্থা থেকে বাড়িয়ে এক হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নতুন অডিটোরিয়ামে ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও ডাক্তার পুনর্মিলনী-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি যেন অবহেলা ও অযত্নে দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে। যন্ত্রপাতির নির্ধারিত কার্যকাল পর্যন্ত কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

রোগীর প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান

চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, রোগীরা চিকিৎসকের কাছে এসে তাদের শারীরিক সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। রোগীকে যথেষ্ট সময় দেওয়া, তাঁর সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং আন্তরিক আচরণের মাধ্যমে চিকিৎসকের প্রতি আস্থা তৈরি করা সম্ভব। চিকিৎসাসেবায় দক্ষতার পাশাপাশি মানবিকতা ও সহমর্মিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশদূষণ ও খাদ্যের গুণগত মান মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু ওষুধ দেওয়াই নয়, কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে বিষয়েও রোগীদের সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে পরামর্শ দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ওষুধের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে চিকিৎসকেরা মানুষকে সচেতন করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

নতুন চিকিৎসকদের প্রতি বার্তা

নতুন চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের পর মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের জন্য এবং সমাজের কল্যাণে ভালো কাজ করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন