মহাসড়কের স্তব্ধতা ফুঁড়ে প্রবাসীর স্বপ্নের দৌড়: এক রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প

সিটিভি নিউজ।। মনির হোসেন ​বিশেষ প্রতিবেদন: ===========
ঘড়ির কাটায় তখন সকাল ৮টা। গন্তব্য ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আমার উদ্দেশ্য—সৌদি আরবগামী ভাগিনা সাইফুল ইসলামকে দুপুর ১১টার মধ্যে ইমিগ্রেশনে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় পৌঁছাতেই থমকে গেল সব হিসাব-নিকাশ। চোখে-মুখে আঁধার নেমে আসার মতো অবস্থা; মাইলের পর মাইল জুড়ে স্থবির হয়ে আছে যানবাহন। দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের বিমান ধরা তো দূরের কথা, যানজটের যে রূপ, তাতে বিকেলের আগেও ঢাকা পৌাঁছানো অসম্ভব।
​একদিকে প্রবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আর মাথার ওপর টিকটিক করে চলা সময়ের কাঁটা, অন্যদিকে মহাসড়কের নিশ্চল বন্দিদশা। এমন এক কঠিন সংকট মুহূর্তে চরম বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিলেন যাত্রী দলটি।
​গাড়িতে নারী ও বড় লগেজ রেখে পায়ে হেঁটে শুরু অভিযান
চান্দিনার তীব্র যানজটে যখন প্রাইভেট কার আটকে আছে, তখনই নেওয়া হলো এক তাৎক্ষণিক কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। গাড়িতে থাকা ছালেয়া আপা, তাঁর নাতনি ফাইজা এবং স্ত্রী কোহিনূর আকতারকে প্রাইভেট কারেই রেখে দেওয়া হলো নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য। আর বড় কার্টনটি গাড়িতে রেখে শুধু একটি কাঁধের ব্যাগ নিয়ে মহাসড়কে সোজা হাঁটা শুরু করলেন সাইফুল ও তাঁর আংকেল সাংবাদিক মনির হোসেন ।
​ছয়টি বিকল্প বাহন ও ৫,৬০০ টাকার রোমাঞ্চকর যুদ্ধ
বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে একের পর এক যান বদলে শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য দৌড়। মহাসড়কের জ্যাম এড়িয়ে কখনো ব্যাটারি রিকশা, কখনো সিএনজি, আবার কখনো বাইক রাইডার—
​চান্দিনা থেকে ইলিয়টগঞ্জ: ৫০০ টাকায় ব্যাটারি রিকশায় যাত্রা।
​ইলিয়টগঞ্জ থেকে দাউদকান্দি: ১,০০০ টাকায় সিএনজি।
​দাউদকান্দি ব্রিজ পারাপার: ১০০ টাকায় ব্যাটারি রিকশা।
​ব্রিজের ওপার থেকে ভবের চর: ৪০০ টাকায় সিএনজি।
​ভবের চর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা: ১,০০০ টাকায় সিএনজি।
​মেঘনা টোল থেকে গাউছিয়া: ১,৫০০ টাকার সিএনজি রাইড।
​গাউছিয়া থেকে ৩০০ ফিট: ৪০০ টাকায় দ্রুতগতির সিএনজি।
​৩০০ ফিট থেকে বিমানবন্দর: শেষ মুহূর্তে দু’টি মোটরসাইকেলে ৭০০ টাকা ভাড়ায় সরাসরি বিমানবন্দরে প্রবেশ।
​১টা ১০ মিনিটে সাফল্য ও কাঙ্ক্ষিত সেলফি
সব প্রতিকূলতা জয় করে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তারা যখন বিমানবন্দরে পৌঁছালেন, তখন ইমিগ্রেশনের দরজা প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস! নির্ধারিত ফ্লাইট ২টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে আসন থেকে সাইফুলের একটি হাসিমুখের সেলফি বার্তা পাঠায় মামার মোবাইলে—যার পেছনে জমা ছিল এক অদম্য লড়াইয়ের গল্প।
​এই দূর্যোগময় মুহূর্তে সহকর্মী সাংবাদিক এবং স্বজনরা সার্বক্ষণিক মেসেঞ্জার ও মোবাইলে খোঁজখবর রেখে মানসিকভাবে সাহস যুগিয়েছেন। দিনশেষে সব ক্লান্তি ভুলে চাটগাঁ এক্সপ্রেসে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ফেরার পথে কেবল একটাই বাক্য উচ্চারিত হলো—’আলহামদুলিল্লাহ’। লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।। সংবাদ প্রকাশঃ ২৯-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন