১০০ বছরের সরকারি রাস্তা দখল করে দেয়াল, তদন্তে সত্যতা মিললেও উদ্ধার নয়—ঘটনাস্থলে না গিয়েই ‘বাড়িকে পুকুর’ বললেন এসিল্যান্ড

সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: ===========কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি সরকারি পাকা রাস্তা দখল করে এর মূল গতিপথ পরিবর্তন এবং দেয়াল নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা তদন্তে মিললেও এখন পর্যন্ত দখলমুক্ত করা হয়নি।
উল্টো ঘটনাস্থলে না গিয়েই রাস্তার পরিবর্তে সেটিকে ‘পুকুর’ হিসেবে উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়ায় মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় দখলদার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিয়াতল পূর্বপাড়া এলাকায়। দারোরা-কাজিয়াতল সুপার মার্কেট সড়কের অরার পুকুরপাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশ হয়ে নায়েব আলী মেম্বারের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া এ সরকারি পাকা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাজিয়াতলসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃতই নয়, এ সড়কটি দেবীদ্বার ও ঢাকা যাতায়াতেরও একটি সংযোগ সড়ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পাশের বাসিন্দা মো. নায়েব আলী (পিতা: মৃত জিন্নত আলী) ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি রাস্তার মূল অংশ ভরাট করে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এতে রাস্তার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে একটি অন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহনকে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
এ ঘটনায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং রাস্তা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবিতে শতাধিক এলাকাবাসীর স্বাক্ষরসংবলিত লিখিত অভিযোগ মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগের পর গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এসিল্যান্ড কার্যালয়ের পাঠানো কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত ও মাপজোক করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তে সরকারি রাস্তা দখলের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দখলদার নায়েব আলীকে রাস্তা ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। সে সময় নায়েব আলী উপস্থিত সবার সামনে স্বেচ্ছায় সরকারি রাস্তা ছেড়ে দিয়ে নিজ উদ্যোগে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরদিন বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকেই তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, “এই রাস্তা উদ্ধারের ক্ষমতা কারও নেই।”
এদিকে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খান বলেন, “সরকারি রাস্তাটি পুকুরের ভেতরে ভেঙে পড়েছে। ওই স্থান দিয়ে রাস্তা সংস্কার করতে গেলে ব্যয় অনেক বেশি হবে। বর্তমানে যে রাস্তা রয়েছে, সেটি দিয়ে চলাচলে কোনো সমস্যা নেই। জনস্বার্থে নায়েব আলী তার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে নিজ খরচে রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছেন। এখানে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আমাদের হয়রানি করতেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে।”
তবে অভিযোগকারীরা এসিল্যান্ডের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি শুরু থেকেই অভিযোগ গ্রহণে অনাগ্রহী ছিলেন। তাদের দাবি, প্রথমে অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানো হলেও পরে নানা কৌশলে এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দিয়ে গ্রহণপত্র নিতে সক্ষম হন তারা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তদন্তে রাস্তা দখলের সত্যতা পাওয়ার পরও এসিল্যান্ড এখন দখলদারকে রক্ষা করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। তাদের দাবি, “যেখানে সরকারি রাস্তার মূল অংশ দখল করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে পুকুর ভরাট করে রাস্তা করতে হবে—এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে এসিল্যান্ড দখলদারের পক্ষ নিচ্ছেন বলেই আমাদের ধারণা।”
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন পিন্টু অভিযোগ করে বলেন, “ভূমি অফিসের লোকজন তদন্তে এলে আমাদের সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়। আমরা সেখানে গেলে অভিযুক্ত নায়েব আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের গালিগালাজ ও হুমকি দেন।”
তিনি আরও বলেন, “এসিল্যান্ড সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো দখলদারের পক্ষ নিচ্ছেন বলে আমরা মনে করছি। প্রয়োজনে জনস্বার্থে ইউএনও ও এসিলযান্ডের কার্যালয় ঘেরাওসহ আইনানুগভাবে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেব। তারপরও আমরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাব।”
এলাকাবাসীর পক্ষে আবেদনকারী মো. কামাল হোসেন ও মো. হানিফ বলেন, “এই সড়কটি বহু গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের পথই নয়, পার্শ্ববর্তী উপজেলা এবং ঢাকাগামী যাত্রীরাও সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি রাস্তাটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে না আনলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের দাবি, সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করে জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ছবির ক্যাপশনঃ মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে বিরোধপূর্ণ রাস্তার তদন্তে ভূমি অফিসের লোকজন কর্তৃক মাপার সময় তোলা সংগৃহীত ছবি। এবং অভিযোগের কপি। সংবাদ প্রকাশঃ ৩০-০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=