তিন দশক পরও অটুট বন্ধুত্বের বন্ধন: কুমিল্লায় এসএসসি ১৯৯৫ ব্যাচের তিন সহপাঠীর প্রাণবন্ত পুনর্মিলনী

সিটিভি নিউজ।। নিজস্ব প্রতিবেদক।।===================
সময়ের ব্যবধান বেড়েছে, জীবনের ব্যস্ততা বেড়েছে, বদলে গেছে পেশা, দায়িত্ব ও জীবনযাপনের ধরন। কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুত্বের বন্ধন সময়ের স্রোতে কখনো ম্লান হয় না। সেই চিরন্তন সত্যেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৫ ব্যাচের তিন সহপাঠী।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর বাদুরতলাস্থ জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট হামসাফার-এ এক আন্তরিক চা-চক্রে মিলিত হন দীর্ঘদিনের তিন বন্ধু। প্রাণখোলা আড্ডা, স্মৃতিচারণ, হাসি-আনন্দ এবং আবেগঘন মুহূর্তে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
পুনর্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের সুপরিচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মুক্তার আহমেদ প্রধান।
বন্ধুদের এই মিলনমেলায় ফিরে আসে বিদ্যালয় জীবনের অসংখ্য স্মৃতি। শ্রেণিকক্ষে একসঙ্গে পড়াশোনা, টিফিনের ফাঁকে আড্ডা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পরীক্ষার প্রস্তুতি, শিক্ষকদের স্নেহ-শাসন—সবকিছু যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে তাদের কথোপকথনে। দীর্ঘদিন পর একত্রিত হলেও সময় যেন তাদের বন্ধুত্বে কোনো দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারেনি।
আড্ডায় আলোচনায় উঠে আসে জীবনের নানা উত্থান-পতনের গল্প, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, পরিবার, সমাজ এবং দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়। একসময়ের কিশোর সহপাঠীরা আজ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হলেও বন্ধুত্বের সেই নির্মল সম্পর্ক এখনো একই রকম উষ্ণ ও আন্তরিক—যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন, “বিদ্যালয়ের বন্ধুরা মানুষের জীবনের সবচেয়ে নির্মল সম্পর্কগুলোর একটি। কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত দেখা না হলেও যখনই একত্রিত হওয়ার সুযোগ হয়, তখন মনে হয় আমরা আবার সেই স্কুলজীবনেই ফিরে গেছি।”
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, “বন্ধুত্ব এমন একটি সম্পদ, যার কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘ সময় পর দেখা হলেও আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি থাকে না। এই সম্পর্ক আমাদের মানসিক শক্তি ও অনুপ্রেরণার উৎস।”
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মুক্তার আহমেদ প্রধান বলেন, “জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও বন্ধুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
চা-চক্রটি শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; এটি ছিল বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং স্মৃতির এক অনন্য মিলনমেলা। উপস্থিত তিন বন্ধুই ভবিষ্যতে ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৫ ব্যাচের আরও সহপাঠীদের নিয়ে বৃহত্তর পুনর্মিলনী আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের মতে, কর্মব্যস্ত জীবনের প্রতিযোগিতার এই সময়ে এমন পুনর্মিলনী শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ককেই দৃঢ় করে না, বরং সামাজিক বন্ধন ও মানবিক মূল্যবোধকেও আরও সমৃদ্ধ করে। বিদ্যালয়ের সহপাঠীদের মধ্যে আজীবন সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতা বজায় রাখার এ ধরনের উদ্যোগ বর্তমান প্রজন্মের জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সন্ধ্যার আড্ডা শেষ হলেও তিন বন্ধুর হৃদয়ে রয়ে যায় অসংখ্য স্মৃতি, হাসি আর আবেগে ভরা কিছু অনন্য মুহূর্ত। বিদায়ের আগে তারা আবারও একত্রিত হওয়ার অঙ্গীকার করেন। কারণ, সত্যিকারের বন্ধুত্ব সময়ের দূরত্বে নয়, হৃদয়ের গভীরতায় বেঁচে থাকে—আর সেই বন্ধনই প্রমাণ করলেন ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৫ ব্যাচের এই তিন সহপাঠী। সংবাদ প্রকাশঃ ৩০-০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=