ব্রাহ্মণপাড়ায় নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন

সিটিভি নিউজ।। মো. বাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।। =============
কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বলাকিয়া গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য সালিশে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ফরিদ উদ্দিন। বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ক্ষমা চান।
‎ভিডিও বার্তায় চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন দাবি করেন, বলাকিয়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের প্রায় দুই বছর ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। গভীর রাতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় স্থানীয় কয়েকজন তরুণ তাদের হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হলেও গভীর রাত হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি। পরদিন সকালে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানান।
‎চেয়ারম্যানের ভাষ্য, পরদিন সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ওই বাড়িতে অনেক লোকের সমাগম হয়েছে। পরে অভিযুক্ত নারী ও যুবকের সঙ্গে কথা বললে তারা প্রায় ১৮ মাস ধরে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেন। ওই যুবক বিয়েতে রাজি হলেও নারী এতে রাজি ছিলেন না বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান।
‎পরে বিদেশে অবস্থানরত ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানান বলে ভিডিও বার্তায় দাবি করেন চেয়ারম্যান।
‎ফরিদ উদ্দিন বলেন, সালিশ বৈঠকের সময় পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এ অবস্থায় স্থানীয় মুরব্বি ও সাহেব-সর্দারদের পরামর্শে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি উভয়কে স্যান্ডেল দিয়ে কয়েকটি বাড়ি দেন।
‎ভিডিও বার্তার শেষাংশে চেয়ারম্যান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়েই তাকে ওই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। এতে তার দ্বারা আইনবহির্ভূত কোনো কাজ হয়ে থাকলে বা আইনের কোনো বাধাবিঘ্ন ঘটে থাকলে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চান।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে মাধবপুর ইউনিয়নের বলাকিয়া গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ওই নারী ও সংশ্লিষ্ট যুবককে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নারীকে জুতাপেটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ওই পুরুষকে শাস্তি দেওয়ার কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি।
‎এদিকে সালিশের সিদ্ধান্ত এবং নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই নারীর চুলের খোঁপা ধরে পিঠে জুতাপেটা করতে চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিনকে দেখা যায়।
‎এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিনের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার বিষয়টি শুনেছি। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিওও দেখেছি। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংবাদ প্রকাশঃ ২১-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন