বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ, পরিদর্শনে প্রাথমিক সত্যতা পেলেন ইউএনও

সিটিভি নিউজ।। নিজস্ব প্রতিনিধি ==========================
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে নিম্নমানের ইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। অভিযোগের পর সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কিছু নিম্নমানের ইট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রুরাল অ্যান্ড আরবান টাউনশিপ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (জটওঞওচ)-এর আওতায় কালীগঞ্জ পৌরসভার গান্না রোডের পাওয়ারহাউস থেকে শ্রীরামপুর মধ্যপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫০ মিটার সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ৭০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৪ টাকা ৫৫ পয়সা। কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রায় ২০ দশমিক ১০ শতাংশ কম দরে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স তাজুল ইসলাম ট্রেডার্স।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কের দায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্মাণকাজ চলাকালে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি দেখা যায়নি। এছাড়া পৌরসভার নিজস্ব রোলার ব্যবহারের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ফেলে দ্রুত ভেঙে রোলিং করা হচ্ছে এবং সাব-বেজে অতিরিক্ত ধুলাবালি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজুল ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাজুল ইসলাম বলেন,কাজটি আমি করছি না। আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে অন্য একজন কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি শোয়েব আহম্মেদ একাধিকবার নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করলেও কাজের মান নিয়ে কোনো আপত্তি বা পর্যবেক্ষণ দেননি। একই সঙ্গে পৌরসভার কার্যসহকারী ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জহরুল ইসলামকে নির্মাণস্থলে খুব কম দেখা যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
তবে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারেই কাজ হচ্ছে।
অভিযোগের পর গত বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে কিছু নিম্নমানের ইট পেয়েছি। সেগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক গোলাম ইয়াজদানি বলেন, প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। সংবাদ প্রকাশঃ ২৮-০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=