দোকান কর্মচারী ও হকারদের অধিকারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের মর্যাদায় শ্রম সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি- অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান ============ জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের মর্যাদায় শ্রম সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে বক্তব্য দেন
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান,
দোকান কর্মচারী ও হকারদের অধিকারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রমিক সমাবেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাকশালের পতন এবং নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর স্বৈরশাসকদের যেমন আর ফিরে আসতে দেখা যায়নি, তেমনি টানা ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে জনগণ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শ্রমিকদের অধিকার হরণ করে একটি দমনমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের মুখে সেই শক্তির পতন ঘটেছে এবং তারা এখন আর রাজনৈতিক শক্তি নয়, পলাতক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাদের পতন বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল ঘটনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম, বরকত ও জব্বার ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ নূর হোসেনও ছিলেন শ্রমিক। একইভাবে জুলাই বিপ্লবেও তিন শতাধিক শ্রমিক জীবন দিয়েছেন। যেসব শ্রমিক নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, সেই শ্রমিকদেরই আজ নিজেদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নতুন বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আবারও রাজপথে নামতে হবে—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশে প্রায় ৯২ লাখ দোকান কর্মচারী রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় দুই লাখ নারী শ্রমিক। অথচ অধিকাংশের পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্র নেই, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই, ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় কাজ করেও তারা ন্যায্য মজুরি পান না। অনেক প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটিও দেওয়া হয় না এবং তাদের জন্য কোনো বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও এই বিপুল শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়াকে তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অবিলম্বে দোকান কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, বেতন কাঠামো ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের শুধু আশ্বাস নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
হকারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী হলো হকাররা। উচ্ছেদের নামে অনেক ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও যথাযথ নোটিশ ছাড়া হকার উচ্ছেদ আইনসম্মত নয়। হকারদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র চাপ অনুভব না করলে অধিকার দেয় না। তাই শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সবসময় নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে অধিকার আদায়ে বিশ্বাস করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং শ্রম সংস্কারের প্রশ্নে অনীহা দেখা যাচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা ও সংস্কারের দাবিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিকবান্ধব সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
শেষে তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
২৪জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি, জুলাই সনদ ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, দোকান কর্মচারীদের নিয়োগপত্র প্রদান, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ দোকান কর্মচারী ফেডারেশন (রেজি নং-বি ২২২০) আয়োজিত দোকান কর্মচারী ও হকার শ্রমিক সমাবেশ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দোকান র্কমচারী ফেডারেশন সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে,বিষেশ অতিথি হিবেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশান কেন্দ্রীয় সিনীয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ ,কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক লসকর মোঃ তসলিম ,কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন ঢাকা মহানগরী দক্ষিনের সভাপতি আব্দুস সালাম ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি মাওলানা মুহিবুল্লাহ সহ ইউনিয়নের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন,
সঞ্চালনা করেন দোকান র্কমচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান,
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, দেশের শ্রমিকদের অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি। সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
লসকর মো. তসলিম বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে এখনও বৈষম্য, শোষণ ও নির্যাতন বিদ্যমান। ইসলামী শ্রমনীতির আলোকে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।বিশেষ অতিথি আব্দুস সালাম বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের নামে হকারদের হয়রানি করা হচ্ছে। পুনর্বাসনের পরিবর্তে চাঁদাবাজির সুযোগ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সমাবেশ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কার্যকর, দোকান কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ প্রকাশঃ ২২-০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=