চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গার মাটি কেটে নিল মাটিখেকো বাহাদুর হুমকির মুখে মহাসড়ক ও জাতীয় পাওয়ার গ্রীডের টাওয়ার

সিটিভি নিউজ।। মনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান =======: দেশের লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম অংশের উজিরপুর ইউনিয়নের সামুকসার এলাকার সরকারি জায়গার মাটি রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে গেছে চিহিৃত মাটিখেকো বাহাদুর মিয়া। এতে হুমকির মুখে পড়েছে মহাসড়ক সহ জাতীয় পাওয়ার গ্রীডের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সুবিশাল দুটি টাওয়ার ও পল্লী বিদ্যুৎ এর ৩৩ হাজার ভোল্টেজের সঞ্চালন লাইনের অন্তত ৫টি খুঁটি। যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা সহ প্রাণহানির চরশ আশংকায় দিনাতিপাত করছে আশেপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। এর ফলে ধসে পড়তে পারে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পশ্চিম পাশের বিশাল একটি অংশ। এমন কিছু ঘটলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে মহাসড়কের স্বাভাবিক যান চলাচল।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের সামুকসার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পশ্চিমপাশের সরকারি জায়গায় অন্তত ৪০ ফুট গভীর করে বিশাল একটি অংশজুড়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকার সুবর্ণপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে ওই এলাকার চিহিৃত মাটি ব্যবসায়ী বাহাদুরের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘ এক-দেড় মাস ধরে মাটি কেটে নিয়ে গেছে। তারা রাতের আঁধারে সড়ক ও জনপথের বিশাল এলাকায় মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে বাঁশের বেড়া দিয়ে আঁড়াল করে একাধিক দীর্ঘকায় ভেকুর ব্যবহার করে কতগুলো বড় সাইজের ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে প্রায় ৪০-৫০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে আশেপাশের ব্রিকস ফিল্ড সহ বিভিন্ন স্থানে চুক্তিতে ভরাটের কাজ নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করেছে। যার ফলে পল্লী বিদ্যুৎ এর ৩৩ হাজার ভোল্টেজের ৫টি খুঁটি ও জাতীয় পাওয়ার গ্রীডের ২টি টাওয়ার ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে, এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই পল্লী বিদ্যুতের কয়েকটি খুঁটি হেলে পড়েছে। মহাসড়ক ঘেঁষে মাটি কাটায় যেকোন মুহুর্তে ধসে পড়তে পারে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পশ্চিম পাশের ওই অংশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছ্ েজনমনে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের।
উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল হাই অভিযোগ করে বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নে মাটিকাটা প্রতিরোধ কমিটি থাকলেও তা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। যারা প্রতিরোধ করার কথা তারাই এসব কাজ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। সুয়াগাজী এলাকার বাহাদুর নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী সিন্ডিকেট মহাসড়কের পাশের এই মাটিগুলো কেটে নিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ, সড়ক ও জনপথ সহ কৃষি বিভাগ এই বিষয়ে কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। চেয়ারম্যান আরো অভিযোগ করে বলেন, ৫০-৬০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় যেকোন সময়ে সড়ক ও বিদ্যুতের খুঁটিগুলো ধসে পড়তে পারে। ঘটতে পারে নানান দুর্ঘটনা। প্রাণহানির আশংকাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এর কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ^রোডস্থ সদর দপ্তরের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) দিলীপ চৌধুরী বলেন, সামুকসার এলাকায় মাটি কাটার কারণে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের ৫টি খুঁটি ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতিমধ্যে একটি খুঁিট অনেকটা হেলে পড়েছে। এই বিষয়ে চৌদ্দগ্রামের ডিজিএমকে মামলা করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিজিএম মো. নূরুজ্জামান বলেন, নানকরা এলাকার মাটি কাটার বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু সামুকসারের ঘটনায় আমাকে এখনো কোন নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। নির্দেশনা পেলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পাওয়ার গ্রীড কুমিল্লার অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম অংশের সামুসকার এলাকায় জাতীয় পাওয়ার গ্রীডের একটি টাওয়ারের চারপাশ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ায় সেটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনায় সহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ পাটোয়ারীকে বাদী হয়ে শীঘ্রই মামলা করতে বলা হয়েছে।
সহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ পাটোয়ারী গত বুুধবার (২০ মে) বিকালে বলেন, আমি কাটার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিবাদী করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলাম। অভিযোগে আসামীর নাম না থাকায় থানার ওসি মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে আমাকে ফেরত পাঠান।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, আসামীদের নাম উল্লেখ করে পাওয়ার গ্রীডের সহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে একটি অভিযোগ থানায় নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু হুট করে তিনি আবার আসামীদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে চেয়েছিলেন। আমি তাকে আসামীদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি সংশোধন করে আসতেছি বলে থানা থেকে চলে যান।
পুনরায় এই বিষয়ে কথা হয় সহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ পাটোয়ারীর সাথে, তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্থ টাওয়ারের কাছে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে বাহাদুর নামে এক ব্যক্তি মাটি কেটে নিয়েছে বলে জানতে পারি। কিন্তু তা আমি আদালতে কিভাবে প্রমাণ করাবো। আমি চেয়েছিলাম পুলিশী তদন্তে অভিযুক্তদের নাম উঠে আসুক।
সওজের কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া জায়গাগুলো সড়ক ও জনপথের। কিন্তু বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে জাতীয় পাওয়ার গ্রীডের টাওয়ার ও পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের খুঁটি গুলো। তিনি আরো বলেন, মহাসড়কের পাশের মাটি কেটে নেওয়ায় মহাসড়ক ঝুঁকিতে থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাহাদুরের মুঠোফোনে কল দিলে রাসেল নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বাহাদুরের বড় ভাই পরিচয় দিয়ে বলেন, আমরা সওজের জায়গা থেকে কোন মাটি কাটিনি। কিন্তু মহাসড়ক থেকে ৩০০ ফিট দূরে ব্যক্তি মালিকানার জায়গার মাটি ক্রয় করে সেগুলো সওজের জায়গার রাস্তা ব্যবহার করে অন্যত্র বিক্রি করেছি মাত্র। বাহাদুরকে দিতে বললে তিনি লাইনটি কেটে দিয়ে মোবাইলটি বন্ধ করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাথে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি। সংবাদ প্রকাশঃ ২২-০৫-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=