রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল দায়িত্বশীল ও পৃথক কর্মী সমাবেশ এডভোকেট আতিকুর রহমান “এখনো শ্রমিকের ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত শ্রম আদায় করা হচ্ছে।”

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার ঢাকা =================
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, এখনো কোথাও ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত শ্রম আদায় করা হচ্ছে।
শ্রমিক সমাজের ভাগ্য উন্নয়নে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আন্দোলন করে যাচ্ছে।
গতকাল শনিবার সকালে রংপুর নগরীর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল দায়িত্বশীল ও পৃথক কর্মী সমাবেশ এবং রংপুরের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যগণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের অঞ্চল পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে বাংলাদেশ খুলনা বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী অঞ্চল পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক আবুল হাশেম বাদল, সহকারী অঞ্চল পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক জহুর মোহাম্মদ জিয়াউল হক, রংপুর মহানগর উপদেষ্টা ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খান ও জেলা উপদেষ্টা মাওলানা এনামুল হক, নীলফামারী জেলা সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি মতিউর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি এডভোকেট কাউছার আলী ও জেলা সভাপতি বেলাল আবেদীন, জেলা সেক্রেটারি হারুন উর রশিদ, পঞ্চগড় জেলা সভাপতি আবুল বাসার বসুনিয়া, লালমনিরহাট জেলা সভাপতি রোনাজেল আলম ও জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুল হক ইমন, কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি এডভোকেট ইলিয়াসিন ও জেলা সেক্রেটারি আতাউর রহমান, গাইবান্ধা জেলা সভাপতি নুরুবী প্রধান, দিনাজপুর জেলা সভাপতি জাকির হোসেন ও সেক্রেটারি এনামুল হক এমএসসহ অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।
নিচে বক্তব্যটি গুছিয়ে, প্রাঞ্জল ও বক্তব্যধর্মী আকারে উপস্থাপন করা হলো—
সম্মানিত প্রধান অতিথি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন,
“সম্মানিত ভাইয়েরা, আজ আমরা যারা এখানে উপস্থিত আছি, আমরা সবাই শ্রমিক ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছি। বাংলাদেশে সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃত। এই বিপুল শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা, জীবনমান উন্নয়ন এবং জুলুম-নির্যাতন থেকে রক্ষার দায়িত্ব মূলত শ্রমিক সংগঠনগুলোকেই পালন করতে হয়।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দেশের অন্যতম প্রাচীন শ্রমিক সংগঠন। ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে নিবন্ধিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শ্রমিকদের অধিকার আদায়, ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে বহু সরকার এসেছে। সবাই শ্রমিকবান্ধব বক্তব্য দিলেও বাস্তবে শ্রমিকদের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। ১৮৮৬ সালের শিকাগো আন্দোলনের ১৪০ বছর পার হলেও আজও শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, চাকরির নিশ্চয়তা এবং ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা পুরোপুরি পায়নি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখনও ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নামলে শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করা হয়। কোথাও ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত শ্রম আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দাসপ্রথার মতো আচরণ করা হয়। চাকরির নিরাপত্তা নেই, কখন ছাঁটাই হবে তার নিশ্চয়তা নেই। শিল্পকারখানায় লাখো নারী-পুরুষ শ্রমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়, যাতে এক প্রতিষ্ঠান থেকে ছাঁটাই হলে অন্য কোথাও চাকরি না পায়। অথচ শ্রম মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদপ্তর ও কলকারখানা অধিদপ্তর থাকার পরও শ্রমিক নির্যাতন, বৈষম্য ও অন্যায় ছাঁটাই বন্ধ হচ্ছে না। নারী শ্রমিকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ট্রেড ইউনিয়ন করতে গেলেও শ্রমিকদের হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়।
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে সরকারপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলো শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পরিবর্তে টেন্ডারবাজি, দখলবাজি ও বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে। যারা শ্রমিকের ন্যায্য দাবি নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে, তাদের দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি ঘরোয়া বৈঠক করলেও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের পর সেইসব সংগঠনের অনেক নেতাকেই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ প্রকৃত শ্রমিক নেতৃত্বের প্রয়োজন আজ সবচেয়ে বেশি। কারণ, এক শ্রেণির নেতা শ্রমিকদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করে নিজেদের সুবিধা নিয়েছে। এর ফলে দেশের শ্রমিক আন্দোলন আজ নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে।
তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন শক্তিশালী করা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সৎ, সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্ব ছাড়া শ্রমিকদের মুক্তি সম্ভব নয়।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনারা কি শ্রমিকের পক্ষে থেকে কাজ করতে প্রস্তুত?’ এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা উচ্চস্বরে ‘হ্যাঁ’ ধ্বনি দিয়ে সমর্থন জানান।
সবশেষে তিনি বলেন, “যদি আমরা সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হই, তাহলে অসৎ নেতৃত্বের পেছনে গিয়ে শ্রমিকরা বারবার প্রতারিত হবে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না।”
বিকেলে একই স্থানে সমাবেশের দ্বিতীয় অধিবেশনে রংপুরের নির্বাচিত রংপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক মাওলানা রায়হান সিরাজী, রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক মাওলানা নুরুল আমীনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি বলেন জুলুম ও বন্ধন থেকে মুক্তি পেয়ে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা একদিন রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করবে। অধ্যাপক মাওলানা রায়হান সিরাজী এমপি বলেন, শ্রমিকরা কেবল ঘরবাড়ি নির্মাণ করে না, তারা ২৪-এর গণআন্দোলনে রাষ্ট্র গড়ার দায়িত্বও পালন করেছে। অধ্যাপক মাওলানা নুরুল আমীন এমপি বলেন, যুগে যুগে শ্রমিকরা তাদের রক্ত আর ঘাম দিয়ে মানুষের জীবনের নতুন স্বপ্ন গড়েছে তবে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। সংবাদ প্রকাশঃ ১০-০৫-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=