‘আমি জ্যান্ত, অথচ সরকারি খাতায় মৃত’: ঋণের দায় এড়াতে ইউপি সদস্যের যোগসাজসে জালিয়াতি

সিটিভি নিউজ।। বিল্লাল হোসেন মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি ===================
শরীর আছে, কথা বলছেন, চলাফেরা করছেন, অথচ সরকারি দপ্তরের খাতায় তিনি একজন ‘মৃত’ ব্যক্তি। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মর্জিনা আক্তার এখন নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ঋণের দায় এড়াতে ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদের যোগসাজসে আপন ফুফাতো ভাইয়ের করা এক জঘন্য জালিয়াতির বলি হয়ে বেঁচে থেকেও ‘মৃত’ হতে হলো তাকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে মর্জিনা আক্তারের ফুফাতো ভাই ইয়ামিন কৌশলে তার জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি হাতিয়ে নেন। সেই নথি ব্যবহার করে ইয়ামিন নিজের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারকে ‘মর্জিনা’ সাজিয়ে একটি এনজিও থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ তোলেন। চলতি বছরের ১৯ মার্চ ইয়ামিনের স্ত্রী সুমাইয়া মারা যান। ঋণের টাকা পরিশোধের চাপ থেকে বাঁচতে ইয়ামিন এক চাঞ্চল্যকর পথ বেছে নেন। তিনি জীবিত মর্জিনাকেই নিজের মৃত স্ত্রী হিসেবে চালিয়ে দিয়ে ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদের কাছ থেকে তার নামে মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
ভুক্তভোগী মর্জিনা আক্তার বর্তমানে মানবেতর পরিস্থিতির শিকার। এনজিওর ঋণ ও সরকারি খাতায় মৃত ঘোষিত হওয়ার গ্লানি নিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘আমি জ্যান্ত মানুষটা সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, অথচ সরকার বলছে আমি মরা! একজন ইউপি সদস্য কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে কীভাবে আমার নামে মৃত্যুর সনদ দিলেন? আমি এই জালিয়াতির সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধামঘর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফিরোজ আহমেদ নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ‘আমি সরল বিশ্বাসে ইয়ামিনকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিলাম।’
অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক গাফিলতিও সামনে এসেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দাবি, মেম্বারের সই দেখেই তারা মৃত্যুর সনদ ইস্যু করেছেন। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এই ধরনের ভুল সংশোধন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। ধামঘর ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাঈম সরকার জানিয়েছেন, মর্জিনার ‘মৃত’ সনদ বাতিল করে তার জন্ম নিবন্ধন পুনরায় সচল করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বী বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং জালিয়াতির শামিল। আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিয়ে মৃত্যুর সনদ দেওয়ার এই ঘটনা এখন মুরাদনগরের টপ অব দ্য টাউন। এখন দেখার বিষয়, আইনি জটিলতা কাটিয়ে মর্জিনা কবে আবার ফিরে পান নিজের বেঁচে থাকার আইনি স্বীকৃতি। সংবাদ প্রকাশঃ ২৪-০৪-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন