ব্রাহ্মণপাড়ায় সাপের আতঙ্কে দিশেহারা গ্রামবাসী, এক বাড়ি থেকেই ধরা পড়ল ৫২টি সাপ আগে সাপের কামড়ে ছাত্রীর মৃত্যু, এবার ঘরের ব্যাগ-বই-বস্তার নিচে সাপের আস্তানা!

সিটিভি নিউজ।। সৌরভ মাহমুদ হারুন ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি ================
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামে সাপের উপদ্রব ঘিরে জনমনে আতঙ্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একের পর এক বসতঘর থেকে সাপের বাচ্চা ও বড় সাপ বেরিয়ে আসায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী। ঘরের ব্যাগ, বই, বস্তা থেকে শুরু করে মুরগির খোঁয়াড়ের নিচেও মিলছে সাপ। গত ১৭ অক্টোবর সাপের কামড়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার পর এবার একটি বাড়ি থেকে ৫০টি সাপের বাচ্চা ও দুটি বড় সাপ ধরার খবরে পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের গুচ্ছগ্রাম এলাকার আজিজ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের খবর পেয়ে দাউদকান্দি থেকে রাজু কবিরাজ নামে এক সাপুড়ে এসে বাড়িটির বিভিন্ন ঘর ও আশপাশের স্থান থেকে সাপগুলো ধরেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর ধান্যদৌল গ্রামে সাপের কামড়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর থেকেই গ্রামজুড়ে সাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে গত ২২ অক্টোবর সামসু মাস্টারের বাড়ি থেকে ২২টি সাপ পাওয়া যায়, যেগুলো স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরে ফেলেন বলে জানা গেছে। এরপর বিভিন্ন বাড়িতে সাপের বাচ্চা ও বড় সাপের উপস্থিতি ধরা পড়ায় আতঙ্ক আরও বাড়তে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন আগে আজিজ মিয়ার বাড়ির জালালের ঘরে একটি সাপের বাচ্চা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে সেটি মেরে ফেলা হয়। এর কিছুদিন পর একই বাড়িতে আরও একটি সাপের বাচ্চা দেখা যায়। গত ২৮ অক্টোবর মানিকের ঘরের সামনে এবং আজিজ মিয়ার ঘরের সামনেও সাপের বাচ্চা দেখতে পান স্থানীয়রা। সেগুলোও মেরে ফেলা হয়।
এভাবে বারবার সাপের উপস্থিতি দেখা দেওয়ায় বাড়ির বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে সাপ ধরার জন্য খবর দেওয়া হয় রাজু কবিরাজকে। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাড়িতে পৌঁছে সাপ ধরার কাজ শুরু করলে বিভিন্ন ঘর থেকে একের পর এক সাপ বেরিয়ে আসে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহজাহানের ঘরের একটি ছোট ব্যাগের ভেতর থেকে ১০টি সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। একই ঘরে বইয়ের ভেতর থেকেও একটি সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়। আলমের ঘর থেকে চার-পাঁচটি এবং বাদশা মিয়ার ঘরে বস্তার নিচ থেকে আট থেকে ১০টি সাপের বাচ্চা বের করা হয়। এ ছাড়া আলমের ঘরের মুরগির খোঁয়াড়ের নিচ থেকে একটি বড় সাপ, কাউসারের ঘর থেকে একটি বড় সাপ ও ছয়-সাতটি সাপের বাচ্চা এবং আলামিনের ঘর থেকে আরও ছয়-সাতটি সাপের বাচ্চা ধরা হয়। বাড়ির অন্যান্য স্থান থেকেও সাপ উদ্ধার করা হয়।
সাপুড়ে রাজু কবিরাজের দাবি, সব মিলিয়ে ওই বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে ৫০টি সাপের বাচ্চা ও দুটি বড় সাপ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সাপের বাচ্চা মারা গেছে। বাকি সাপগুলো তিনি নিয়ে গেছেন।
একটি বাড়ির একাধিক ঘর থেকে এতগুলো সাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ভয় আরও বেড়েছে। ঘরের নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের ভেতর ও নিচে সাপ পাওয়ায় নিজেদের বসতঘরেও নিরাপদ বোধ করছেন না অনেকে। বিশেষ করে শিশুদের ঘরের বাইরে একা যেতে দেওয়া কিংবা ঘরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকেরা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আশপাশের বাড়িঘর, ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত স্থানে আরও সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে ধান্যদৌল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক। তাঁরা সাপের উপদ্রবের কারণ অনুসন্ধান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
এক ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর শোক না কাটতেই এক বাড়ি থেকে ৫২টি সাপ উদ্ধারের ঘটনায় ধান্যদৌল গ্রামে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাপের এমন উপস্থিতির প্রকৃত কারণ কী, আশপাশের বাড়িঘরেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটানো গ্রামবাসী এখন নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চান। সংবাদ প্রকাশঃ ২৯-১০-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন