দেবীদ্বার:চাঞ্চল্যকর ফরিদা হত্যাকাণ্ড; ঘাতক লাইলী আক্তারকে ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ‍্যমে জেলহাজতে প্রেরন

সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার সংবাদাতা============= কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের পঞ্চম দিনে ঘাতক লাইলী আক্তারের তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে বিচারকের কাছে হত‍্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

গত পাঁচদিনে পুলিশ গ্রেফতার হওয়া ঘাতক লাইলী আক্তার এর তথ‍্য মতে এবং সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ দেখে ফরিদা ইয়াছমিনের প্রায় অর্ধশত খন্ডিত দেহের অংশ প্রায় ১৪ টি পলিব‍্যাগে পুড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফেলা রাখার পর মাথা-পা’সহ সমস্ত অঙ্গপতঙ্গ উদ্ধার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

একই সাথে হত্যায় ব্যবহৃত দা, নিহতের স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে সর্বশেষ যে গাদার (কাঠের গুড়ি) উপর রেখে দা দিয়ে শরীরের অঙ্গ পতঙ্গ টুকরো টুকরো করা হয়েছে সে কাঠের গুঁড়ি ও উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘাতক লাইলী দেয়া তথ‍্যমতে যাদের নাম বলা হয়েছে তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ বলছে, লাইলীর তথ‍্যমতে যে আলামত উদ্ধার এবং ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে সে একাই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। লাইলী খুবই ধুরন্দর।নিহতের ব‍্যাবহারের স্বর্ণালঙ্কার লুটের নেশায় এ হত‍্যাকান্ড ঘটাতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। পুলিশ আরো জানিয়েছেন, তার সাথে একাধিক কিলার থাকলে ওরা স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সার ভাগ নিত। এ ছাড়া আলমারির ভেতরে থাকা ৭ লক্ষাধিক টাকা এবং ১০ ভরির উপরে স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে যেত। এ ছাড়া লাশের প‍্যাকেটজাত করা খন্ডিত অংশগুলো সহযোগীরা অন‍্যত্র সরিয়ে ফেলত। সব আলামতই লাইলীর তথ‍্যমতে উদ্ধার করা হয়েছে।

লাইলী আক্তার ঘুমন্ত ফরিদা ইয়াছমিনকে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ করে হত‍্যার পর বাতরোমে নিয়ে টুকরো টুকরো করে পলিব‍্যাগে পুড়িয়েছে বলেও সে জানিয়েছে। অত‍্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সে এ হত‍্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার দিন এই বাসায় এরা দুজন ছাড়া আর কেউ ছিলনা। সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় নিহতার মাথার অংশ ব‍্যাগে পুড়িয়ে সকালে স্বাভাবিকভাবে বাসার অদূরে ফেলে আসে, লোকজনের চলাচলও ছিল।

পুলিশ আরো জানায়, লাইলী আক্তার যাদের নাম বলছে তাদের একজন প্রবাসে থাকে, আরেকজন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত, আর বাকী দুজনের বিষয়টিও সন্দেহাতীত। ওদের নাম বলে নিজের সাজা কমানোর আশায়ও বলতে পারে। তবে আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।

সোমবার ও মঙ্গলবার (১০-১১ আগস্ট) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক লাইলী আক্তার চারানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য, লাইলী আক্তার এর আগে ২০২১ সালে পরকীয়া জেরে একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় কারাগারে ছিলেন এবং প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর জামিনে বের হন। ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আলোচিত মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ আদালতের মাধ‍্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে এবং শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসায় ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করার মধ‍্য দিয়েই আমরা তদন্তে নামি।=======
ছবির ক‍্যাপশনঃ দেবীদ্বারে চাঞ্চল‍্যকর ফরিদা ইয়াছমিন হত‍্যাকান্ডে জড়িত লাইলী আক্তারের ছবি।
সংবাদ প্রকাশঃ ১৩-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন