ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাইনবোর্ডে ফুটওভারব্রিজ বন্ধ হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে

সিটিভি নিউজ, এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত ফুটওভারব্রিজটি সংস্কার কাজের অজুহাতে কয়েক দিন ধরে বন্ধ থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার করছেন পথচারীরা। বিকল্প কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীরা।
স্থানীয় আবুল কালাম জানান, রাজধানীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়া এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটের জেলাগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এ মহাসড়কটির সাইনবোর্ড মোড় গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম একটি স্থান। হাজারো মানুষ প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে এ মহাসড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে ফুটওভার ব্রিজটি পার হন।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটওভারব্রিজের প্রবেশমুখে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষের একটি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপনের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।
এ মহাসড়কে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি যান আসা-যাওয়া করে। কিন্তু এ ওভারব্রিজটি বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল করা অবস্থাতেই রাস্তা পার হচ্ছেন তারা। কোথাও হাত উচু করে যানবাহন থামানোর সংকেত দিয়ে দ্রুতগতিতে পার হচ্ছেন পথচারীরা। এই সংকেতে কোনো কোনো সময় যানবাহন থামছে, কোনো ক্ষেত্রে আবার অল্পের জন্য দুর্ঘটনার থেকে বেঁচে রাস্তা পার হচ্ছেন লোকজন।
তবে, মহাসড়কটিতে হাইওয়ে পুলিশ কিংবা ট্রাফিক পুলিশের কাউকে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রী পারাপারে সহযোগিতা করতে দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ব্রিজটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমাও উল্লেখ করা হয়নি। একইসঙ্গে বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ফলে পথচারীরা বিভ্রান্ত হয়ে ঝুঁকি নিয়েই মহাসড়ক পার হতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অনলাইনে সচেতন থাকি। কিন্তু সাইনবোর্ডের এই ফুটওভারব্রিজ বন্ধের বিষয়ে কোনো নোটিশ কখনো দেখিনি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো ব্যস্ততম সড়কে একটি ফুটওভারব্রিজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে, এটা আমরা আশা করি না। কোনো নোটিশও নেই।
এদিকে এখন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছে। অসুস্থ রোগী, নারীসহ অনেকেই ভয় নিয়ে রাস্তা পার হন। এখানে যানবাহন দ্রুতগতিতে চলে। কে কখন দুর্ঘটনার শিকার হবে, তা বলা যায় না।
সায়েদাবাদের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাস্তার ওপারে যাওয়ার কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা পাচ্ছি না। কীভাবে পার হব বুঝতে পারছি না। দুর্ঘটনা তো ঘটতেই পারে। অনেক নারীও দুর্ভোগে পড়ছেন। ব্রিজে উঠে আবার নিচে নেমে আসতে হচ্ছে। দ্রুত এর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় দোকানদার রাজু আহমেদ বলেন, প্রায় ১৪-১৫ দিন ধরে ব্রিজের কাজ চলছে। আমি প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করি। আমার হয়তো তেমন সমস্যা হয় না, কিন্তু অনেক মা-বোন কষ্ট করেন। একজন তো পড়ে গিয়েছিলেন। এতদিনেও কাজ শেষ হয়নি। আমার মনে হয় দুই-তিন দিনের কাজ। মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দ্রুত কাজ শেষ করে ব্রিজটি চালু করা উচিত।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে ফুটওভারব্রিজটি খুলে দেওয়া এবং কাজ চলাকালে বিকল্প নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
জেলা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, আজও আমি ব্রিজটি পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে কাজ সম্পূর্ণ করতে আরও তিন দিনের মতো সময় লাগতে পারে। বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ব্রিজটি পুনরায় পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে পারব। সংবাদ প্রকাশঃ ১৩-০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=