আড়াইহাজার উপজেলা হাসপাতালে ডাক্তারকে মারধর তিনদিন পর বিএনপির সভাপতিকে বাদ দিয়ে তার ছোট ভাই ছেলেসহ ছয়জনের নামে মামলা

সিটিভি নিউজ, এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ =================
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় তিনদিন পর থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে গুরুত্বর আহত মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামালের স্ত্রী মনোয়ারা আকতার বাদি হয়ে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতির ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন ও ছেলে সুমনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনকে আসামী করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার হামলার নেতৃত্বদানকারি মুল হোতা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভুইয়াকে মামলায় আসামী না করায় হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার ও নার্স স্টাফরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডাক্তার জানান, ইউসুফ হোসেন ভুইয়ার নাম মামলায় যাতে না দেয়া হয় এ কারনে গত তিন দিন ধরেই হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক ভাবে চাপ দেয়া হয়েছে। যে কারনে বাদি অনেকটা বাধ্য হয়ে তার নাম বাদ দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় আসামিরা হলো উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন, তার ছেলে মনির , ইউসুফ ভ্ইুয়ার ছেলে সুমন, সোহান, পারভেজ, সিফাত নাম উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদি এজাহারে উল্লেখ করে গত পাচঁ জুলাই সকালে আটটা থেকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসাপাতালের জরুরী বিভাগে মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফরহাদ (৩৫) উপ উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল , ওটিবয় মো: টুটুল শেখ জরুরী বিভাগে রোগিদের সেবা দিয়ে আসছিলো। সকাল ৮ টা ২০ মিনিটে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেনের ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে অসুস্থ অবস্থায় জরুরী বিভাগে নিয়ে আসে। জরুরী বিভাগের ডাক্তার প্রাথমিক পরিক্ষা করে বাইরে থেকে একটি ইনজেকশন নিয়ে আসতে বলেন। এসময় জরুরী বিভাগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত দুইজন রোগি আসে। তাদের অবস্থা আশংঙ্কজনক হওয়ায় আমার স্বামী উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকতা আব্দুল্লাহ আল কামাল ও ডাক্তার ফরহাদ চিকিৎসা দিচ্ছিলো। এসময় বিল্লাল হোসেন ইনজেকশন নিয়ে এসে দ্রুত দিতে বলে। ইনজেকশন দিতে সামান্য দেরী হওয়ায় অকথ্য ভাষায় দায়িত্ব্রত ডাক্তারদের গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন মোবাইলে ফোন করে লোকজনকে হাসপাতালে ডেকে আনে। এসে তারা উত্তিজিত হয়ে দুর্ঘটনায় আহত রোগিদের চিকিৎসা অবস্থায় আমার স্বামীকে টেনেহেচড়ে হত্যার উদ্দ্যোশে মারধর করে জখম করে। এসময় হাসপাতালে আনসার সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে। অন্য আনসার সদস্যরা একজনকে আটক করলে আসামীরা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহতদের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারিরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুত্বর আহত আব্দুল্লাহ আল কামালকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরোসাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাপাতালে কর্তব্যরত কয়েকজন ডাক্তার ও নার্স (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভুয়ার নেতৃত্বে হাসপাতালে ডাক্তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। অথচ মামলায় তার নাম নেই। এভাবে অপরাধীকে রাজনৈতিক বিবেচনায় ছাড় দিলে অপরাধীরা আরো মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। একই সাথে হাসপাতালে দায়িত্বরত ডাক্তার নার্স ও স্টাফরা যাতে নিবিঘ্নে নিরাপদে কাজ কারতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য প্রশাসন ও সকারের কাছে দাবি জানান ।
এ ব্যাপারে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: ইউসুফ হোসেন ভুইয়া বলেন, আমার ছোট ভাই বিল্লাহ হোসেন তার মুমুর্ষ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালের ডাক্তার তাকে চিকিৎসা না দিয়ে প্রভাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এ নিয়ে আমার ভাই প্রতিবাদ করায় তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে জরুরী বিভাগ থেকে বের করে দেয়। তিনি বলেন, এখন ডাক্তার নাটক সাজিয়ে আমার ছোট ভাই ছেলের নামে মামলা দিয়েছে। আমি জড়িত ছিলাম না বলেই আমাকে মামলায় আসামী করা হয়নি।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন রাজনৈতিক চাপে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভুইয়াকে মামলা থেকে বাদ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বাদি যে এজাহার দিয়েছে সেভাবেই থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১২জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
সংবাদ প্রকাশঃ ০৭০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=