কুমিল্লার মসজিদে মসজিদে তারাবির জোয়ার: হাফেজদের সুমধুর কণ্ঠে বিমোহিত মুসল্লিরা

সিটিভি নিউজ।। মনির হোসেন: সংবাদদাতা জানান —=========
আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ মসজিদ, চারদিকে সুমধুর কোরআনের গুঞ্জন আর আধ্যাত্মিক এক শান্তিময় পরিবেশ—এভাবেই কুমিল্লার প্রতিটি মসজিদে পালিত হচ্ছে পবিত্র রমজানের তারাবির নামাজ। জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রামের পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত প্রতিটি মসজিদে এখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড়।
কুমিল্লার তারাবির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো হাফেজ সাহেবদের সুললিত কণ্ঠের তেলাওয়াত। নগরীর ঐতিহাসিক শাহ সুজা মসজিদ, কান্দিরপাড়া জামে মসজিদ,রানীর বাজার জামে মসজিদ,বাগিচাগাঁও তিন গুমবুজ জামে মমজিদ,পুলিশ লাইন জামে মসজিদ,টমসম ব্রিজ জামে মসজিদ,ঠাকুরপাড়া জামে মসজিদ,।শোকতলা জামে সমজিদ,কালিয়াজুড়ি জামে মসজিদ,বিঞ্চুপুর মৌলভী পাড়া জামে মসজিদ,ভিক্টোরিয়া কলেজ জামে মসজিদ,তালপুকুর পাড় জামে মসজিদ,ভাটপাড়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ,আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদসহ বড় বড় সব মসজিদে খতম তারাবিতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। অনেক মসজিদে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় মুসল্লিদের বারান্দা, ছাদ এমনকি মসজিদের সামনের সড়কেও কাতারবদ্ধ হতে দেখা গেছে।

নামাজ পড়তে আসা এক মুসল্লি জানান, “কুমিল্লার হাফেজদের তেলাওয়াত বরাবরই অত্যন্ত শ্রুতিমধুর। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লেও ক্লান্তি আসে না, বরং মনের মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি কাজ করে।”

ধর্মীয় নগরী হিসেবে পরিচিত কুমিল্লায় তারাবিকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এ বছর অনেক মসজিদে তরুণ হাফেজদের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। তাদের স্পষ্ট মাখরাজ এবং দরদী কণ্ঠের তেলাওয়াত আকৃষ্ট করছে তরুণ প্রজন্মকেও। মাগরিবের পর থেকেই ইফতার সেরে মুসল্লিরা মসজিদের দিকে ছোটেন পছন্দের হাফেজের পেছনে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে।মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের বাড়তি ভিড় সামলাতে কাজ করছে মসজিদ কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবক দল।
পুরুষদের তারাবিহর নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করা সুন্নাত। ওজরের কারণে যদি মসজিদে যাওয়া সম্ভবপর না হয় এবং জামাত করা না যায়, তখন একা পড়লেও পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে। অনুরূপ পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজও বিশেষ অবস্থায় একাকী আদায় করা যাবে। এতেও পরিপূর্ণ সওয়াব লাভ হবে।

তা’লিমুল কোরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসা হাফেজ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তারাবিহর নামাজের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য কোরআন তিলাওয়াত করা ও শোনা। তারাবিহর নামাজে পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার পাঠ করা সুন্নাত। একে খতম তারাবিহ বলা হয়। যাঁরা সব সময় খতম তারাবিহ পড়ে থাকেন বা পড়ার ইচ্ছা রাখেন, তাঁরা বিশেষ কোনো কারণে তা করতে না পারলেও এর পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন। হাদিস শরিফে রয়েছে, ‘কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (বুখারি, হাদিস: ১)।

তারাবিহর নামাজে পূর্ণ কোরআন মাজিদ না পড়ে বিভিন্ন সুরা দিয়ে তারাবিহ পড়াকে সুরা তারাবিহ বলা হয়। সুরা তারাবিহ পড়লেও ২০ রাকাত পড়া সুন্নাত। একা পড়লেও ২০ রাকাতই পড়া সুন্নাত। মহিলাদের জন্যও ২০ রাকাত তারাবিহ সুন্নাত। এশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্তের পূর্ব পর্যন্ত তথা সাহ্‌রির শেষ সময় পর্যন্ত তারাবিহ নামাজ পড়া যায়। একসঙ্গে একই সময় ২০ রাকাত পড়তে না পারলে ভেঙে ভেঙে আলাদাভাবেও পড়া যাবে। শিশুরাও তারাবিহ নামাজ পড়তে পারে। যেহেতু এটি সুন্নাত নামাজ, তাই কোনো কারণে পড়তে না পারলে অসুবিধা নেই, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে রোজাদারের উচিত তারাবিহ না ছাড়তে সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

সব মিলিয়ে, কোরআনের নূরে আলোকিত কুমিল্লার রাতগুলো এখন অনেক বেশি মুখর এবং শান্তিময়। রমজানের এই আধ্যাত্মিক আবহ নগরীর মানুষের মাঝে সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করছে। সংবাদ প্রকাশঃ ২৪-০২-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন