বুড়িচংয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল একজনের বুড়িচংয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল একজনের

সিটিভি নিউজ24।। সৌরভ মাহমুদ হারুন
বুড়িচং সংবাদদাতা জানান কুমিল্লা।।। মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে? এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, অন্যটিতে আহত অন্তত ১৫
সৌরভ মাহমুদ হারুন।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে এক প্রাণ, আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাবিলা ইউটার্ন এলাকায় ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের স্টাফ বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৫ জন। অন্যদিকে, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পারুয়ারা এলাকায় ট্রাকের চাপায় আবু জাহের নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের স্টাফ বাসটি কলেজে প্রবেশের জন্য ইউটার্নে পৌঁছালে একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় যানবাহনগুলো। এতে কলেজের শিক্ষার্থী, স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট যানবাহনের যাত্রীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়।
একই দিনে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার পারুয়ারা এলাকায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, আবদুল মতিন খসরু কলেজ গেটের সামনে সিলেটগামী একটি ট্রাকের চাপায় আবু জাহের নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় একটি প্রাণ, অন্যটি একসঙ্গে আহত করে অন্তত ১৫ জনকে—মহাসড়কের এই দুই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্ন।
কুমিল্লা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম রুহুল আমিন কাবিলার দুর্ঘটনায় ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সকাল ৯টার দিকে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের স্টাফ বাস, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পারুয়ারা এলাকায় ট্রাকচাপায় একজনের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁদের কাছে তাৎক্ষণিক তথ্য নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সড়কে সামান্য অসতর্কতা কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন গতির পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, বুড়িচংয়ের পৃথক দুর্ঘটনা দুটি আবারও তা স্মরণ করিয়ে দিল। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে যানবাহন চলাচলে সতর্কতা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।