টিকটকে পরিচয়, এরপর কুমিল্লা ছাড়ার পরিকল্পনা করে কুমিল্লা পুলিশ লাইন হাই স্কুলের ৪ শিক্ষার্থি

সিটিভি নিউজ।। টিকটকে পরিচয়, এরপর কুমিল্লা ছাড়ার পরিকল্পনা করে কুমিল্লা পুলিশ লাইন হাই স্কুলের ৪ শিক্ষার্থী, যারা ক্লাস থ্রি ও ফাইভে পড়ে। পরে জেলা পুলিশের অভিযানে ওই ৪ স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে কুমিল্লায় আনা হয়।
শিক্ষা ও সাহিত্য সংস্কৃতির পাদপীঠ কুমিল্লা এখন দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।
অপ্রতিম ও তাজমিন ট্রাজেডির পর আমাদের সমাজের নেতিবাচক দিকগুলো সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আপনার সন্তানকে নিরাপত্তা আপনাকেই দিতে হবে। সন্তান অবাধ্য হলে তাকে শাসন করতে হবে। প্রয়োজনে অধিকতর কঠোর হতে হবে। আদরের পাশাপাশি শাসন বহাল থাকলে প্রায় ক্ষেত্রেই সন্তান নিরাপদ থাকবে বলে মনে করি। আপনার সন্তানরা আপনাদের আদরের সুযোগে বিপথে চলে গিয়ে যখন নির্মম পরিণতির শিকার হয়। তখন হয়তো আমরা বিশেষ করে অভিভাবক শ্রেণী ও সুশীল সমাজের কিছু আবাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দোষারোপ করে থাকি। এমন অভিযোগ কি পুরোটাই সঠিক ?
আদতে তা নয়। এটা সত্যি, চুরি ছিনতাই চাঁদাবাজি বেড়েছে। রাতের কুমিল্লা অনিরাপদ, তাতে কোন সন্দেহ নেই।
এমন পরিস্থিতিতে আপনি আপনার সন্তানকে রাতের বেলায় কিভাবে একা বের হতে দেন?
সন্তান কোথায় যাচ্ছে তার খবর না রেখে কিভাবে শান্তিতে থাকেন?
তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা কিভাবে আইফোনের মত দামি মোবাইল ব্যবহার করে? কার কাছ থেকে পেল এই দামি মোবাইল?
যদি আপনারা এই ছোট শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল তুলে দেন, তাহলে কেন দিলেন?
আপনার সন্তান এডাল্ট অ্যাপসে নিয়মিত কানেক্ট থাকে, তার খবর কি আপনারা রাখেন?
আপনার সন্তান tiktok একাউন্ট খুলে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করছেন তার খবর কি আপনি রাখছেন?
সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু বয়ফ্রেন্ড কাদের বানাচ্ছেন তার খবর কি আপনি রাখেন?
আপনার মেয়ে সন্তান এই বাচ্চা বয়সে কার বাসায় যাচ্ছেন, কার সাথে হোটেলে যাচ্ছেন তার খবর কি আপনারা রাখেন?
আপনার সন্তান নেশাগ্রস্ত, দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন, কিশোর গ্যাং এর সাথে যুক্ত হয়ে নানা রকম অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ছে, তার খবর কি আপনি রাখেন?
একটা শিক্ষার্থী রাত সাতটায়, রাত দশটায়, রাত ১২ টায় রাস্তায় কি করে? এসব বিষয়ে কি আপনি একজন অভিভাবক হিসেবে চিন্তা করছেন?
আপনি যখন আগুনে হাত দিবেন স্বাভাবিকভাবেই আপনার হাত পুড়ে যাবে। আপনি গভীর রাতে রাস্তায় বের হবেন, আপনি নিশ্চিতভাবে ছিনতাইকারী, ধর্ষণকারীর কবলে পড়বেন। এমনকি মৃত্যু হতে পারে।
পৃথিবীর যেকোনো দেশে এমন হতে পারে। সব সময় সব জায়গায় নিরাপত্তা পাওয়া যায় না। আপনার সন্তানের নিরাপত্তা নিজেকে দিতে হবে।
সুশীল নামের কিছু কুশীল দেখি ফেসবুকে লিখে থাকেন- মেয়েটা রাস্তায় নিরাপত্তা পেল না। দেশে নিরাপত্তা বলে কিছু নেই।
ওইসব আবাল মার্কা কুশিলদের বলছি, কোন নেশাগ্রস্থ, অপরাধী রাতের আঁধারে এসব বিবেক দিয়ে চিন্তা করে না। অপরাধীর কাজ অপরাধ করা। তাদের যদি বিবেকবোধ থাকতো তাহলে তো তারা নিজ বাড়িতে অবস্থান করতো। তাদের কাছে তাদের নিজের সন্তানও নিরাপদ না।
তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দোষারোপ না করে নিজেরা সচেতন হোন।
কুমিল্লায় দুটি বড় ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। চারটা বাচ্চা কিভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে অন্য ছেলেদের সাথে জীবনের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারলো। এদের অভিভাবকরা পুলিশকে জানানোর সাথে সাথে জেলা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা না নিলে হয়তো তাদের অবস্থা তাজমিনের মত হতে পারতো। তাই সময় থাকতে সচেতন হোন।
এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। কোন সমাজ নষ্ট পথে ধাবিত হতে পারে না। নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করুন।
আর প্রমাণিত অপরাধীদের ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনা, রেল দুর্ঘটনা, হার্ট অ্যাটাকের মত কিছু ব্যবস্থা নিলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় কাজ করবে। বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রসেস কোনভাবেই কাম্য নয়। সংবাদ প্রকাশঃ ১৪-১০-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=