একজন সাংবাদিকের শেষ চিরকূট: পেশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নির্মম বাস্তবতা

সিটিভি নিউজ।। খন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি ঃ======
“সুমন, তোমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য দুঃখিত। একসঙ্গে প্রায় দেড় যুগ কাজ করেছি। কখনো কোনো কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিও। যদি পারো, সমকালে আমার পাওনা টাকা আদায় করে তোমার বউদির হাতে দিও।”
বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জির লেখা একটি চিরকূটের এই কথাগুলো এখন সাংবাদিক সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে।
একসময় যে মানুষটি একটি জাতীয় দৈনিকের ব্যুরো প্রধান হিসেবে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন, মানুষের অধিকার ও সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন, শেষ সময়ে তাঁর নিজের জীবনের হিসাব যেন এসে দাঁড়াল চাকরি, পাওনা টাকা, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তার কাছে।
প্রতিবেদনগুলো বলছে, পুলক চ্যাটার্জি ২০২৩ সালের দিকে সমকাল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর বেকার ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর তিনি হতাশায় ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর নিজের লেখা চিরকূটে শারীরিক অসুস্থতার কথাও উঠে এসেছে।
এই ঘটনা কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগের প্রমাণ নয়। বরং এটি আমাদের সামনে আরও বড় একটি প্রশ্ন রেখে যায়:
বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জীবন কতটা নিরাপদ?
একজন সাংবাদিক বছরের পর বছর একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করেন। রাত-বিরাতে খবর সংগ্রহ করেন, দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান, রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন, মানুষের দুঃখ-কষ্টের গল্প তুলে ধরেন।
কিন্তু একদিন চাকরিটা চলে গেলে?
তারপর কী?
পরিবারের নিরাপত্তা কে দেবে?
দীর্ঘদিনের পাওনা কে বুঝিয়ে দেবে?
অসুস্থ হলে পাশে দাঁড়াবে কে?
চাকরি হারানোর পর একজন প্রবীণ সাংবাদিকের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা কোথায়?
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু তাই শুধু একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর নয়। এটি সাংবাদিকতার পেশাগত নিরাপত্তা, চাকরির স্থায়িত্ব, পাওনা পরিশোধ, অবসর-পরবর্তী জীবন এবং সাংবাদিকদের মানসিক ও সামাজিক সহায়তা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি কঠিন বার্তা।
একজন সাংবাদিক অন্যের কষ্টের খবর লেখেন।
কিন্তু তাঁর নিজের কষ্টের খবর কে লেখে?
একজন সাংবাদিক মানুষের পাওনা আদায়ের খবর করেন।
কিন্তু নিজের পাওনা আদায়ের জন্য তাঁকে শেষ চিঠি লিখতে হবে কেন?
আর সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একজন সহকর্মীর কাছে তাঁকে লিখতে হয়েছে
“যদি পারো, সমকালে আমার পাওনা টাকা আদায় করে তোমার বউদির হাতে দিও।”
এই একটি বাক্যই হয়তো আমাদের সাংবাদিক সমাজের অনেক না-বলা গল্প সামনে নিয়ে আসে।
সাংবাদিকের হাতে থাকে কলম, ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন।
কিন্তু তার নিজের জীবনেও যে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নিশ্চয়তা প্রয়োজন, সেই কথাটিও এখন জোর দিয়ে বলা দরকার।
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু তদন্তাধীন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে। তাই কাউকে দায়ী না করে, বরং এই মৃত্যু থেকে সাংবাদিকদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষা নেওয়াই হোক আমাদের দায়িত্ব।
একজন সাংবাদিকের কলম থেমে গেলে শুধু একটি মানুষ হারায় না, সমাজ হারায় একজন সাক্ষীকে।
আল্লাহ পুলক চ্যাটার্জিকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর পরিবারকে এই কঠিন সময়ে শক্তি দিন। আমিন। সংবাদ প্রকাশঃ ১২-০৯-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=