অধ‍্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ‘র সপ্তম মৃত‍্যুবার্ষিকী অনানুষ্ঠিকতায় নিরবেই চলে গেল

সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি/===============
বাংলাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ন্যাপের সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস‍্য ‘কুড়ের ঘর’র মোজাফ্ফরখ‍্যাত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বড় কোন আয়োজন ছাড়া নিরবেই চলেগেল। তিনি ৯৮ বছর বয়সে ২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেছেন।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদে ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে সম্রান্ত ভূঁইয়া পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা কেয়াম উদ্দিন ভূঁইয়া একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন এবং এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, মাতা আফজারুন্নেছা গৃহিনী ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) কেন্দ্রীয় কমিটি কিংবা দেবীদ্বার উপজেলা ন‍্যাপের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কর্মসূচি নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্র “চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ” এর কার্যালয় সংলগ্নে প্রয়াত অধ‍্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ’র সামাধিতে ‘ন‍্যাপ’, ‘কমিউনিস্ট পার্টি’, ‘ন‍্যাপ- কমিউনিস্ট পার্টি- ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনী’, ‘দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব’, ‘মোজাফ্ফর- মনিসিং গ্রন্থাগার’ এর পক্ষ থেকে প্রয়াত নেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

দুপুর ১২ পর্যন্ত উল্লেখিত দল ও সংগঠনের বাহিরে আর কাউকে প্রয়াত নেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়নি। এমনকি ‘চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’, অধ‍্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কলেজ, তার বাবা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত উচ্চ বিদ‍্যালয়ের পক্ষ থেকেও ফুলের শ্রদ্ধা জানানো হয়নি। দোয়া ও স্মৃতিচারণ মূলক আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়নি।

প্রবীণ ন‍্যাপ নেতা বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাকুর রহমান ফুলমিয়া মাষ্টার বলেন, উপজেলা ন‍্যাপের পক্ষ থেকে অধ‍্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ এর মৃত্যু বর্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভাসহ নানা আয়োজন করার কথা, এ বিষয়ে কেউ আমাকে কিছু জানায়নি।

এ বিষয়ে ন‍্যাপ উপজেলা সভাপতি অনিল ঠাকুর জানান, আমরা অধ‍্যাপক মোজাফফর আহমদ’র মৃতু‍্য বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়ার আয়োজন করা হয়নি। প্রতিবারের ন‍্যায় নেতার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ন‍্যাপ কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের সভাপতি আইভি রহমান অসুস্থ‍্য, তাই ব‍্যাপক কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রয়াত নেতার স্মরনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

এ ব‍্যাপারে এলাহাবাদ কলেজ’র অফিস সহকারী (দপ্তরি) ও অধ‍্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ’র বাড়ির কেয়ার টেগার ন‍্যাপ নেতা মো. আবুল কাসেম জানান, নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে স্থানীয়ভাবে কোন আয়োজন করা হয়নি। লোকসমাগমও ছিলনা, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসা ৭টি তোরণের সাথে ১৪ জন লোকও ছিলেন না। এ পরিনতির জন‍্য দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলাই দায়ী।

১৯৩৭ সালে কুমিল্লার চান্দিনা গরুবাজারে বৃটিশ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আয়োজিত এক জনসভায় মহত্মাগান্ধী’র “ হিন্দু মুসলিম ভাই হো, এক হো, বৃটিশ রাজ খতম হো” এ বক্তব্যের মর্মার্থ খুঁতে যেয়ে মোজাফফর আহমদ অবিভক্ত ভারতে নিষিদ্ধঘোষিত বাম ধারার ছাত্রসংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হন। সেই সূত্রেই মোজাফফরের হাতেখড়ি ঘটে কমিউনিস্ট পার্টির বাম রাজনীতিতে। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে তিনি পুরোপুরিভাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

তিনি তার বাবা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্কুলে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়েই তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার সূচনা হয়েছিল। হোসেনতলা প্রাথমিক স্কুল ও জাফরগঞ্জ রাজ ইনস্টিটিউশনে লেখাপড়া করেন।পরে দেবীদ্বার রেয়াজ উদ্দিন সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৩৭ সালে মাধ্যমিক এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ১৯৩৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করার পর শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র মোজাফফর আহমদের। এছাড়াও তিনি পরিসংখ্যান বিষয়ে ইউনেস্কোর ডিগ্রি লাভ করেন।

এর আগে অধ‍্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ঢাকা কলেজে অধ‍্যাপনাকালে ১৯৫১-৫২ সালে ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগারখ‍্যাত তার আজিমপুর কলোনির ৮/আই নম্বর সরকারি বাসভবনে তৎকালীন যে সব শীর্ষস্থানীয় বামপন্থী, কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতারা নিয়মিত গোপন বৈঠক করতেন, তাদের মধ্যে প্রধান নেতারা হলেন:নেপাল নাগ, খোকা রায়, অনিল মুখার্জি, সত্যেন সেন ছিলেন। সে সময় প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের তীব্র নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর এই সরকারি কোয়ার্টারটিকে কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল নেতৃবৃন্দ একটি নিরাপদ কেন্দ্র বা “গোপন আস্তানা” হিসেবে ব্যবহার করতেন। এখানেই ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন কৌশল, লিফলেট তৈরি এবং পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাংগঠনিক রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। এছাড়াও অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে ১৯৫৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন এবং তার ওই বাসাতেই যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্টের দফাগুলো তৈরি করার দায়িত্বে ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমেদ। বামদের পক্ষ থেকে মূল দফাগুলো তৈরি করার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ। তার ডিকটেশনে দফাগুলো লিখেছিলেন সাংবাদিক, রাজনীতিক শহীদুল্লা কায়সার। এভাবে প্রণীত ২১ দফার ভিত্তিতে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তরুণ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ কুমিল্লার দেবীদ্বার আসন থেকে পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদে মোজাফফর আঞ্চলিক স্বায়ত্ত- শাসনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একই সালের ২৭ জুলাই মওলানা ভাসানী, সীমান্ত গান্ধী গফফার খানসহ সারা পাকিস্তানের প্রগতিবাদীদের সমন্বয়ে ন্যাপ গঠিত হলে তাঁকে ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুবের সামরিক শাসনে মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে হুলিয়া, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া জারি করেছিল। তাকে ধরিয়ে দিলে তৎকালীন সময়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রাপ্তির ঘোষণাও করেছিল। এরপর আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। আত্মগোপন থাকা অবস্থাতেই তিনি আইয়ুব সরকার শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সুসংগঠিত করেছিলেন।

তিনি ছদ্মবেশে কখনো ফেরিওয়ালা, কখনো তরকারি বিক্রেতা কখনো ফল বিক্রেতা, কখনো পাতলা মাথায় কৃষকের রূপে তিনি বের হয়ে আন্দোলনে সংযুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ আট বছর আত্মগোপনে থাকার পর ফের ১৯৬৬ সালে প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফিরে আসেননি ন মোজাফফর আহমদ। ১৯৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর রংপুরে এক কাউন্সিল অধিবেশনের পর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি যখন চীনপন্থী ও মস্কোপন্থী-এ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়লো চীনপন্থী ন্যাপের সভাপতি হন মওলানা ভাসানী এবং মস্কোপন্থী ন্যাপের সভাপতি হন সীমান্ত প্রদেশের খান আবদুল ওয়ালী খান। সেই দলে মওলানা ভাসানী ছাড়াও ছিলেন কাজী জাফর আহমদ, রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো। আর মস্কোপন্থী শিবিরে পূর্ব পাকিস্তান পন্থী ন্যাপের সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ।

১৯৬৯ এর ২৪ জানুয়ারি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ঢাকাসহ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে যখন হরতাল পালিত হয়েছিল, ঢাকায় আইয়ুব খানের সামরিক সরকার জারি করে কারফিউ এই অবস্থাতেই ২৯ জানুয়ারি ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতাসংগ্রামের মূল নেতৃত্বের একজন তাজউদ্দীন আহমদকে আহ্বায়ক করে গঠিত ছয় সদস্যের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন‍্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে একাত্তরে ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের নিয়ে বিশেষ গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলায় নেতৃত্ব দেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনেও ভূমিকা পালন করেন মোজাফফর আহমদ।
স্বাধীনতার পক্ষে রাশিয়াসহ সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার সমর্থন আদায়ে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। সে সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হয়ে জাতিসংঘে যান।

২০১৫ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ দেওয়ার ঘোষণা দিলে তিনি তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘রাজনীতির অর্থ দেশ এবং মানুষের সেবা। পদ বা পদবির জন্য কখনো রাজনীতি করিনি। পদক দিলে বা নিলেই যে মানুষ সম্মানিত হয়, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি বিশ্বাসী নই। দেশপ্রেম ও মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম, কোনো পদক বা পদ-পদবি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেনি। সত্যিকার অর্থে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তারা কেউই কোনো প্রাপ্তির আশায় যাননি।’ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। সেটিও সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নীতির প্রশ্নে আজন্ম অটল এক যোদ্ধা। যিনি কেবল দিয়েই গেছেন, বিনিময়ে কিছু পাওয়ার অপেক্ষাটুকুও করেননি।

স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭০ সালের ৩১ জানুয়ারী নিজগ্রাম এলাহাবাদে নির্বাচন ও স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে একটি জনসভা করেন। ওই জনসভায় দেশবরেণ্য জাতীয় ৪০ নেতা, শিল্পী কবি-সাহিত‍্যিকরা ছিলেন। ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথের মঞ্চে ছিলেন, বেশ কয়েকটি দেশের রাস্ট্রদবতগন উপস্থিত ছিলেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি কথা বলতেন কিছুটা কৌতুকমিশ্রিতভাবে, কখনো তাতে থাকতো প্রচ্ছন্ন হেঁয়ালির ছোঁয়া। প্রায়ই বলতেন, ‘আমার নাম মোজাফফর আহমদে নূরী, আমি পথে পথে ঘুরি’।

তিনি সাধারন মানুষের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরতে যেয়ে বলতেন, “ভর্তার নিচে তরকারি নাই, নেংটির নিচে কাপড় নাই, চকিদারের নিচে কাপড় নাই”।

তার লিখা বইগুলোর মধ‍্যে উল্লেখযোগ‍্য ছিলেন, সমাজতন্ত্র সম্পর্কে জানার কথা (প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড), কিছু কথা, মুক্তির পথ, সময়ের কন্ঠ।
সরল ও সাহসী অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আজীবন রাজনীতিকে অবলম্বন করে নিজের সমস্ত অধিকার বিলিয়ে দিয়েছেন গণমানুষের মাঝে। মদনপুরে তার হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উপমহাদেশের একমাত্র শিক্ষায়তন সামাজিক বিজ্ঞান পরিষদ। দেশের বাম আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা এই ব্যক্তিত্ব বারেবারে এগিয়ে এসেছেন মানুষের গণ অধিকারের দাবিতে, নিজের জীবনের সুবর্ণ সময়েও গণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। জানতেন এই পথ ভীষণ দুর্গম। কিন্তু আমৃত্যু স্রোতের প্রতিকূলে শিরদাঁড়া উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস ছিল তার।

তিনি ব‍্যাক্তি জীবনে এক কণ‍্যা সন্তানের জনক ছিলেন। একমাত্র কণ‍্যা আইভি রহমান বর্তমানে ন‍্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। প্রয়াত স্ত্রী আমিনা আহমেদ ভাষাসৈনিক, ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের দু’বারের সাবেক এমপি ও ন‍্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তিনি রাজনৈতিক সফরে সোভিয়েত ইউনিয়ন, বুলগেরিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ভারত, লিভিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিন ইয়েমেন ও মধ‍্যপ্রাচ‍্যসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন।

ছবির ক‍্যাপশনঃ দেবীদ্বারে ন্যাপ প্রধান অধ‍্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ এর সপ্তম মৃত‍্যুবার্ষিকীতে তার কবরে ফুলের তোরা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সংগঠন। সাথে অধ‍্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ এর সংগৃহীত ছবি। সংবাদ প্রকাশঃ ২৩-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন