‘কুমিল্লা মডেল’ আজ ধ্বংসের মুখে: চুরি, ফাঁকি ও রাজনীতির বলি ঐতিহ্যবাহী কেটিসিসিএ কেন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে?

সিটিভি নিউজ।। ওমর ফারুকী তাপস নিজস্ব প্রতিবেদক।। ।। ৬০ ও ৭০ এর দশকে বিশ্বজুড়ে তোড়জোড় ফেলে দেওয়া বিখ্যাত ‘কুমিল্লা মডেল’-এর কেন্দ্রবিন্দু, কোতোয়ালি থানা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড (কেটিসিসিএ) আজ অস্তিত্ব সংকটে। কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল করা ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করার উদ্দেশ্যে ১৯৬০ সালে প্রখ্যাত দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ডক্টর আখতার হামিদ খান এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠাতার সেই ঐতিহাসিক উক্তি—“চুরি, ফাঁকি আর দলাদলি—এই তিন রোগ চেপে বসলে পৃথিবীর সেরা সমবায় প্রতিষ্ঠানও বাঁচে না”—আজ কেটিসিসিএ-এর ক্ষেত্রে কঠোর বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুরি ও আর্থিক অনিয়ম
সাধারণ কৃষক ও দিনমজুরদের ঘামঝরা সঞ্চয় এবং শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু বহু বছর ধরে সঠিক অডিট না হওয়া ও ব্যাপক ফান্ড তসরুপের কারণে কেটিসিসিএ-এর আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। তদারকির অভাবে এবং প্রভাবশালী মহলের দখল-বাণিজ্যের কারণে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, যেমন—জমি, রাইসমিল, কোল্ড স্টোরেজ, ট্রাক্টর ও প্রেস ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।
ফাঁকি ও প্রশাসনিক স্থবিরতা
দায়িত্বশীলদের মধ্যে জবাবদিহিতার চরম অভাব এবং ফাঁকি দেওয়ার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানটিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া না আনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেবা সম্প্রসারণে চরম উদাসীনতার ফলে কেটিসিসিএ তার নিয়মিত আয়ের পথ হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে অচল হয়ে পড়েছে।
দলাদলি ও দলীয় রাজনীতি
সমবায়ের মূল ভিত্তি একতা হলেও কেটিসিসিএ-তে জায়গা করে নিয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দলীয় রাজনীতি। পকেট কমিটি গঠন এবং পরিচালনা পর্ষদ দখলের প্রতিযোগিতায় সাধারণ সদস্যদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। তদুপরি, দলাদলি আদালত পর্যন্ত গড়ালে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বহু বছর ধরে থমকে আছে।
পতনের মূল অনুঘটক
দীর্ঘদিনের লুটপাট, অনিয়ম ও সম্পদ লাভজনক খাতে ব্যবহার না করা। অডিট ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার চরম অভাব।দলীয় রাজনীতি, পকেট কমিটি ও তীব্র নেতৃত্ব সংকট। সঞ্চিত আমানত ফেরত না পাওয়ায় সদস্যদের মধ্যে আস্থার সংকট।
ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ
যে কেটিসিসিএ-এর সফলতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে একসময় বিআরডিবি (BRDB)-সহ দেশি-বিদেশি বহু গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা গড়ে উঠেছিল, তা আজ ব্যক্তিস্বার্থ ও নৈতিক অবক্ষয়ের করুণ উদাহরণ। ড. আখতার হামিদ খানের এই স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখতে হলে অবিলম্বে নিরপেক্ষ অডিট, দখলকৃত সম্পদ উদ্ধার, রাজনীতিমুক্ত দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায়, ইতিহাসের পাতায় কেটিসিসিএ কেবলই এক ট্র্যাজিক সমাপ্তির নাম হয়ে থাকবে। সংবাদ প্রকাশঃ ১৭-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=