জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জাতির সঙ্গে প্রতারণা হবে — সাবিকুন্নাহার মুন্নি এমপি

নারী শ্রমিকের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা, বর্তমান বাস্তবতা ও করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক
সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান ================
নারী শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে “নারী শ্রমিকের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা, বর্তমান বাস্তবতা ও করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শ্রমিক শ্রেণির ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটেনি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইশতেহার দিয়ে সরকার পরিবর্তন হলেও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি।
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও তরুণরা একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় জীবন দিয়েছেন। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।”
সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের বড় একটি অংশ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই জনমতকে উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী হবে। তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপি ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন না।
ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি রোজিনা আক্তার উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এবং পরে তিনি সভায় সভাপতিত্ব করেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহিদা সরকার। তাঁর উপস্থাপিত প্রবন্ধে নারী শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, মজুরি বৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, মাতৃত্বকালীন সুবিধার সীমাবদ্ধতা, অনানুষ্ঠানিক খাতে অধিকারবঞ্চনা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ২ কোটি ৩৭ লাখ নারী শ্রমশক্তির বড় অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং অধিকাংশেরই লিখিত নিয়োগপত্র বা সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। একই কাজের জন্য নারী শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় কম মজুরি পান। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ডে-কেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও ট্রেড ইউনিয়নে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় অংশ নেন সাবেক কাউন্সিলর আমেনা বেগম, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার এবং অ্যাডভোকেট শারমীন সুলতানা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক ড. মেহের লুৎফা এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি ড. শামীমা তাসনিম।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কহিনুর মাহমুদ, ডিরেক্টর, বিলস এবং টিসিসির সদস্য।
বক্তারা বলেন, নারী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, সম-মজুরি নিশ্চিতকরণ, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ এবং শ্রম আইন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ প্রকাশঃ ১৮-০৭-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন