স্মৃতি ময় ঐতিহ্য বাহী পীরযাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জাম গাছটি মৃদু বাতাসে পড়ে গেল, একনজর দেখতে দিনভর দর্শনার্থীদের ভীড়

সিটিভি নিউজ।। সৌরভ মাহমুদ হারুন।। সংবাদদাতা জানান ==============
আজও দাঁড়িয়ে ছিল স্মৃতির সাক্ষী হয়ে। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর শৈশবের স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে রেখেছিল পীরযাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই প্রিয় জামগাছটি। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম পরিহাসে রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মৃদু বাতাসেই মূলসহ উপড়ে পড়ে যায় বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে ওঠা শতবর্ষী গাছটি।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পীরযাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই জামগাছটি ছিল শুধু একটি বৃক্ষ নয়, এটি ছিল কয়েক প্রজন্মের আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রীষ্মের মৌসুমে এর টক-মিষ্টি সুস্বাদু জাম খেয়ে বড় হয়েছে আশপাশের ১২ থেকে ১৪ গ্রামের অসংখ্য মানুষ। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছে গাছটি ছিল শৈশবের এক জীবন্ত স্মারক।
প্রায় ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাদের অনেকেরই স্কুলজীবনের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই জামগাছকে কেন্দ্র করে। টিফিনের সময় বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, জাম কুড়িয়ে খাওয়া কিংবা গাছটির ছায়ায় বসে কাটানো মুহূর্তগুলো আজও তাদের হৃদয়ে অমলিন।
গাছটি উপড়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে এক ধরনের শোকের আবহ। সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় করেন তাদের প্রিয় গাছটিকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গাছটির পাশে দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণ করেন আবেগঘন কণ্ঠে।
অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, মুখে ছিল দীর্ঘশ্বাস। যেন হারিয়ে গেছে তাদের জীবনের একটি অধ্যায়, বিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি জীবন্ত অংশ। শতবর্ষী জামগাছটির পতনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর হৃদয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর শূন্যতা। বিদ্যালয়ের মাঠে পড়ে থাকা গাছটির দিকে তাকিয়ে অনেকেই বলছিলেন, “গাছটি শুধু একটি গাছ ছিল না, এটি ছিল আমাদের শৈশব, আমাদের স্মৃতি, আমাদের আবেগের প্রতীক।”
প্রকৃতির নিয়মে একটি গাছের জীবনাবসান ঘটেছে, কিন্তু পীরযাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষী এই জামগাছটি বেঁচে থাকবে হাজারো মানুষের স্মৃতিতে, ভালোবাসায় এবং আগামী প্রজন্মের কাছে বলা গল্পে। এটি যেন এক নীরব ইতিহাস, যার পতনে আজ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।
পীরযাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম ভূইয়া বলেন জামগাছটি প্রাইমারি ও হাই স্কুলের মাঠের মধ্যে খানে ছিল। এটি বিদ্যসলয় ও মাঠের সৌন্দর্য বর্ধক ছিল। আমরাও ছোট বেলায় মাঠে ঘুরাফেরা করতাম সৃজনে এসে জাম খেতাম এবং এর ছায়ায় বসে সময় কাটাতাম। গাছটি ভেঙ্গে পড়ায় শিক্ষার্থী সহ এলাকার সব শ্রেনী পেশার লোকজন কে মর্মাহত করেছে। খবর পেয়ে দূরদূরান্ত থেকে সারাদিন বহু দর্শনার্থীদের ভীড় জমে দেখার জন্য।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন জামগাছটি যেমন স্কুলের সম্পদ ছিল তেমন এই জনপদের একটি ইতিহাস ঐতিহ্য ছিল শত বর্ষের। বহু চড়াই উৎরাই বড় বড় ঝড় তুফান এবং অনেক বন্যা ফেইস বা মুখোমুখি হয়েছে জামগাছের । কিন্তু কখনো জামগাছের ক্ষতি হয়নি । গত রোববার সন্ধ্যার মৃদুমন্দ বাতাসে গাছটি হাঠাৎ মাঠে শায়িত হওয়ায় এলাকাবাসী সহ আমাকে বিষন্নতায় ফেলেছে। আমি এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মোঃ জসিম উদ্দিন কে অবহিত করেছি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
ক্যাপশনঃ বুড়িচং উপজেলার ঐতিহ্য বাহী পীরযাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের মধ্যে খানে ঐতিহাসিক জামগাছটি দন্ডায়মান অবস্থায় পূর্বের ছবি, বর্তমান মাঠের মাছ খানে মৃদুমন্দ বাতাসে শায়িত গাছটি । সংবাদ প্রকাশঃ ২৩-০৬-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন