কুমিল্লা দেবীদ্বারঃ ঈদ বোনাসের দাবিতে দপ্তরীদের শিক্ষা অফিসের সামনে অবস্থান: ৬ ঘন্টা পর ফিরলেন খালি হাতে!

সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশার: দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি/====================
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঈদ বোনাসের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক দপ্তরী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করেও ঈদ বোনাসের দাবি আদায় করতে পারেননি। ৬ ঘন্টাপর খালি হাতে বাড়ি ফিরলেন অশ্রুসিক্ত হয়ে।
রোববার (২৪ মে) সকাল ১০টায় “দেবীদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরী কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে দেবীদ্বার উপজেলার ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৪ বিদ্যালয়ের দপ্তরীগন ঈদ বোনাসের দাবিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কোন ধরনের আশ্বাস না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে যান। সেখানেও ঈদ বোনাস প্রাপ্তির আশ্বাস না পেয়ে বিকেল ৩ টায় অশ্রুসিক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেন তারা।
“দেবীদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরী কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি ৭৮ নং বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে আমাদের মাসিক বেতনের অর্ধেক ঈদ বোনাস এবং বৈশাখী ভাতা ২০% হারে দেয়ার নির্দেশ থাকলেও আমাদের কোন ভাতা দেয়া হয়নি। ফলে সন্তান ও পরিবার পরিজন নিয়ে এবার ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলাম।
তিনি আরো জানান, কুমিল্লার ১৭ টি উপজেলার মধ্যে মুরাদনগর, ব্রাক্ষনপাড়া, হোমনা, মনোহরগঞ্জ, মেঘনা উপজেলাসহ ৫ উপজেলার দপ্তরীরা ঈদ বোনাস পেয়েছেন। দেবীদ্বারের শিক্ষা অফিসার ২০১৯ সালের একটি পরিপত্র দেখিয়ে আমাদের বোনাস আটকে দেন।
দপ্তরী কল্যাণ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী ৮নং ইষ্টগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেছি, শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন, আমরা শিক্ষা অফিসার ও ইউএনও’র সাথে কথা বলেও বোনাস না পেয়ে ফিরতে হলো।
২৯ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী মেশার রফ হোসেন ফুফিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার ছেলে বলে, বাবা তুমি কি চাকরি করো, সন্তানদের একটি জামা কিনে দিতে পারনা। আমি বলেছি বোনাসের জন্য যাচ্ছি, ফিরে এসে তোমাদের সব আশা পুরন করব। ৬ ঘন্টা দেন দরবার করেও বোনাস পেলাম না, আমি এখন ছেলেকে কি জবাব দেব ? আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোন পথ খোলা রইলনা। গরিব হয়ে জন্ম নেয়াটাই অপরাধ হল।
৮৫ নং চাটুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী মো. শাহজাহান সরকার বলেন, আমরা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক (অর্থ) সেলিনা আক্তার এর সাথে যোগাযোগ করি, তিনি জানান, অধিদপ্তর থেকে মৌখিক নির্দেশনা ছিল যে, বৈশাখী ভাতা এবং ঈদবোনাস স্থগিত রাখতে। এক্ষেত্রে লিখিত কোন পরিপত্র জারি করা হয়নি। আপনারা স্থানীয় শিক্ষা অফিসারকে বলবেন আমার সাথে যোগাযোগ করতে, আমি বলে দেব আপনাদের বোনাস দিতে। অনেক অনুরোধ করেও শিক্ষা অফিসারকে দিয়ে সহকারী পরিচালকের সাথে কথা বলাতে পারিনাই। পরে ইউএনও সাহেবকে দিয়ে চেষ্টা করি, তিনিও ফোনে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে পারেননি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, গতকাল শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন ঝুম মিটিং এ এ বিষয়ে কোন দিকনির্দেশনা দেননি। শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০১৯ সালের একটি পরিপত্র দেখিয়ে বলেন, তাদের চাকরি চুক্তি ভিত্তিক, যতদিন কাজ করবে ততদিন বেতন পাবে। এখানে ভাতা বা বোনাস উল্লেখ নেই। ২০২৫ সালের ২৪ মে’র শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি পরিপত্রে বৈশাখী ভাতা এবং ঈদ বোনাসের কথা উল্লেখ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এ পরিপত্র আমি পাইনি। কুমিল্লার আরো ৫ উপজেলা ঈদবোনাস পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অঙ্গীকারনামা রেখে বোনাস ভাতা দেয়ার বৈধতা নেই, আগে পেয়ে থাকলেও এখন নিষেধ আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শিক্ষা অধিদপ্তরের, যেহেতু কুমিল্লার আরো ৫টি উপজেলা বোনাস পেয়েছে, তাই ফোনে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কথা বলতে পারিনি।
ছবির কযাপশনঃ দেবীদ্বারে বোনাসের দাবীতে শিক্ষা অফিসের সামনে দপ্তরীদের অবস্থান, ইউএনও’র কাছে বোনাসের দাবীতে আবেদন করার সময় তোলা ছবি। ====== সংবাদ প্রকাশঃ ২৪-০৫-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=