সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যা মামলা: প্রধান আসামি হৃদয়ের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

সিটিভি নিউজ।। নিজস্ব প্রতিবেদক:============= কুমিল্লাসহ সারা দেশে আলোচিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় প্রধান আসামি নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়ের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আজ ২০ মে বুধবার সোয়া ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১ নং আমলী আদালত) মমিনুল হকের আদালতে এ রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমর্ত্য মজুমদার আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ সালাউদ্দিন ও মাহবুবুল হক খন্দকারসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান। অপরদিকে, বাদী পক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলমসহ ১০/১৫ জন আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে মামলার বাদী নিহত ফারিহার বাবা স্কুল শিক্ষক মো: হানিফ মজুমদার, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ফারিহার মায়ের আহাজারিতে আদালত প্রাঙ্গণ ভারী হয়ে ওঠে। তিনি তাঁর মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং মেহেদী হাসান হৃদয়ের বাসায় থাকা ফারিহার ব্যবহা্য জিনিসপত্র উদ্ধারের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আর্তনাদ জানাতে থাকেন।
মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান হৃদয়ের সাথে আদালত প্রাঙ্গণে কথা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি ঘটনার দিন বাড়িতে ছিলাম না। আমি মেঘনা উপজেলার ছোট সাতমোরা গ্রামে নানার বাড়িতে ছিলাম।”
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান হৃদয়ের মামা মোটর পার্টস ব্যবসায়ী মো: আবদুর রহমান জানান, মেহেদী এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ফারিহার ওপর কোনো চাপ ছিল না। মেয়ের মা সবসময় মেহেদী বেকার থাকায় বিরক্ত হতেন এবং তাকে অপমান করে কথা বলতেন। মেহেদীর মুন্সেফবাড়ির বাসাতেই তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। মেহেদী হাসান হৃদয়ের নানা মো: আফজল মিয়া বলেন, “মেহেদী ঘটনার দিন আমার গ্রামের বাড়ি মেঘনার ছোট সাতমারা গ্রামে ছিল। আমরা যদি এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকি, তাহলে আল্লাহ যেন আমাদের বিচার করেন।”
এর আগে, গত ৫ মে মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামে একটি বহুতল ভবনের স্বামী ও শ্বশুরের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে ফারিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী ও পরিবারের লোকজন ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। ফারিয়ার পরিবার সেই টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয় এবং এ নিয়ে একাধিকবার ফারিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
এদিকে, মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম অভিযোগ করে বলেন, “আমরা যেভাবে এজাহার জমা দিয়েছিলাম, পুলিশ সেভাবে এজহার গ্রহণ করেনি। এতে করে মামলার ভিত দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও আমরা আশা করছি, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।” সংবাদ প্রকাশঃ ২০-০৫-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=