স্ব-উদ্যোগে ভাঙা সড়ক সংস্কার প্রবাসীর,স্বস্তি ফিরেছে ২০ গ্রামের মানুষের মাঝে

সিটিভি নিউজ।। মানিক ঘোষ নিজস্ব প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া বাজার থেকে কুশাবাড়িয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। অবশেষে স্থানীয় এক প্রবাসীর মানবিক উদ্যোগে শুরু হয়েছে সড়ক সংস্কার কাজ। এতে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবাই অংশ নিয়েছেন সড়ক সংস্কারের কাজে। কেউ মাথায় করে ইট বহন করছেন, কেউ হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙছেন, আবার কেউ গর্ত ভরাট করছেন। স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ভাঙা অংশগুলো মেরামত করা হচ্ছে। পুরো এলাকায় যেন তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিকতার চিত্র।
স্থানীয়রা জানান,দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সেগুলো পানিতে ডুবে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হতো। ফলে ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও হয়ে উঠেছিল ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে কৃষকদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। মাঠ থেকে ধান, পাট,শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হতো তাদের।

কুশাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন,’এই রাস্তাটার কারণে আমরা বছরের পর বছর কষ্ট করেছি। বৃষ্টির দিনে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে যেত। এখন রাস্তা সংস্কার হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন,’নারিকেলবাড়িয়া ও কুশাবাড়িয়া বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এই সড়ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার কারণে ক্রেতা ও যানবাহন আসতে চাইত না। এখন অন্তত চলাচলের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।’

অটোরিকশা চালক সোহেল রানা বলেন’আগে এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে গেলে প্রায়ই গাড়ির স্প্রিং ও চাকা নষ্ট হতো। যাত্রীরাও ভয় পেত। এখন রাস্তা ঠিক হওয়ায় আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।’

স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন,’আমাদের ফসল বাজারে নিতে খুব সমস্যা হতো। গাড়ি ঢুকতে চাইত না। এখন রাস্তা কিছুটা ভালো হওয়ায় কৃষকরাও উপকৃত হবে।’

জানা গেছে, মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন মালয়েশিয়া প্রবাসী সমাজসেবক আজিম হোসাইন। তিনি কুয়ালালামপুর শাখা যুবদলের নেতা এবং কুশাবাড়িয়া গ্রামের গোলাম নবী বিশ্বাসের ছেলে। নিজ অর্থায়নে রাস্তার জন্য ইট ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শুরু হয় সংস্কার কাজ।

মুঠোফোনে প্রবাসী আজিম হোসাইন বলেন,’বিদেশে থাকলেও গ্রামের মানুষের কষ্টের কথা শুনে খুব খারাপ লেগেছে। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। গ্রামের মানুষের উপকার হলেই আমি আনন্দ পাই।’

এলাকাবাসী জানান,দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সেখানে একজন প্রবাসীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়ক সংস্কার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি,সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণ করা হোক। কারণ এই সড়ক দিয়েই কুশাবাড়িয়া, মিয়াকুন্ডু, মাড়ুন্দী, মুক্তারামপুর, ধনঞ্জয়পুর, টিকারি ও দহকোলাসহ আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সংবাদ প্রকাশঃ ১৬-০৫-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন