মুরাদনগরে দখলবন্দী খাল; পুনঃখননে কৃষিতে ঘটবে সবুজ বিপ্লব

সিটিভি নিউজ।। এন এ মুরাদ মুরাদনগর প্রতিনিধি : সংবাদদাতা জানান =-========
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে খাল -বিল ও নদী নালা। বসতবাড়ি, দোকানঘর ও সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এসব খাল দখল করে ফেলায় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কৃষি ও পরিবেশ। ফলে বুরো মৌসুমে ৫ হাজার হেক্টর, আউশ মৌসুমে ৬ হাজার ও আমন মৌসুমে ১৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমি অনাবাদি থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমি বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। আবার অনেক এলাকায় সেচ সুবিধার অভাবে জমি চাষাবাদও করা যাচ্ছে না। এতে কৃষকরা একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনেও দেখা দিয়েছে নেতিবাচক প্রভাব।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলায় ২৩ হাজার ৯শ ১৫ হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে প্রতি মৌসুমে ৬-১৫ হাজার হেক্টর কৃষি আনাবাদি থেকে যায়।
শুধু জাহাপুর ইউনিয়নে বড়ইয়াকড়ি,
রানিমুহুরী,বল্লভদী,কাচারিকান্দি,
নয়াকান্দি,তিতারকান্দি ও রতননগর এই সাত গ্রামের ৬ শ কৃষকের ৩ হাজার বিঘা কৃষি জমি সারাবছর জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে। খালগুলো দখল করায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও জলাবদ্ধতা সমস্যা বেরেই চলছে।
পানি উন্নয়ন অধিদপ্তর বলছে
মুরাদনগর উপজেলার নদী ও খাল পুনঃখননের একটি বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি নদী ও খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা আওতায় আনা হয়েছে।
তারাঁ আরো জানান, পুন:খনন করা হবে বুড়ি নদীর ৩২ কিলোমিটার, আর্সি নদীর ৪০ কিলোমিটার এবং এসব নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ২৪টি খাল পুনঃখনন করা হবে। এছাড়াও অদের খাল, নিমাইজুরী, হিঞ্জুরী, আর্চি, দৌলতপুর, সিদ্ধেশ্বরী ও শৈলীখালী খাল।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব খাল পুনঃখনন করা হলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা দূর হবে, তেমনি কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। এতে জমিতে আর দীর্ঘদিন পানি জমে থাকবে না এবং কৃষকরা সহজেই ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে নদী-নালায় আবারও ফিরে আসবে দেশীয় মাছ, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাল দখল ও ভরাটের কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। দ্রুত খাল পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খাঁন পাপ্পু বলেন, “খালগুলো পুনঃখনন করা হলে কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।”
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, “পরিকল্পিতভাবে খাল ও নদী পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হলে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং কৃষি ও পরিবেশ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।” সংবাদ প্রকাশঃ ২৩-০৪-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=