Thursday, July 18, 2024
spot_img
More

    ঘুর্নিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও সুন্দরবন সুরক্ষায় অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের দাবি সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকার

    সিটিভি। নিউজ।। নিজস্ব প্রতিনিধি: ঘুর্নিঝড় রেমালে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও সুন্দরবন সুরক্ষায় অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকা। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতিবছর উপকূলজুড়ে ছোট-বড় কোনো না কোন দুর্যোগে আঘাত হানে। সেই দুর্যোগে উপকূলবাসীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি লক্ষ করা যায়। এবারও ঢাল হয়ে সাতক্ষীরা অঞ্চলকে আরও ভয়ানক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে সুন্দরবন। বাতাসের গতিবেগ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে এ বন।

    সম্প্রতি সাতক্ষীরার উপকূল এলাকায় তান্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেলেও আতঙ্ক কাটেনি এ উপকূলীয় জনপদের মানুষের। রেমালের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ উপচে উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে।

    সুত্রে জানা যায়, জেলায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে ১ হাজার ৪৬৮টি কাঁচা ঘরবাড়ি। এর মধ্যে আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২টি ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ২৭৬টি ঘরবাড়ি। এছাড়া জেলায় ৬০৬ হেক্টর জমির ফসলের ও ২০০ হেক্টর জমির মাছের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে কম বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার ১৭৬ জন মানুষ। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে জেলে পল্লীর শতাধিক পরিবার। একই সাথে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলাতে অসংখ্য গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    এদিকে, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে নদ-নদীগুলোতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ থেকে ৭ ফুট বেশি উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগের আওতাধীন ৬৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। যা ষাটের দশকে নির্মিত। এর মধ্যে উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির ১০টি পয়েন্টে ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যার মধ্যে উক্ত দুই উপজেলায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অতিঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের কয়েকটি পয়েন্টের উপচে পড়া পানিতে ভেসে গেছে ২০০ হেক্টর জমির মৎস্য ঘের ও ৬০৬ হেক্টর ফসলি জমি। এছাড়া কয়েক’শ পরিবার পানি বন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১৫টি ক্যাম্পে সুপেয় পানির পুকুরসহ প্রায় এক কোটি ছয় লাখ টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড় ও জলোচ্ছাসে সাতক্ষীরার ৪৩টি ইউনিয়নে কম বেশি ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে উপকুলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে।
    তাই সরকারের কাছে ঘুর্নিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও সুন্দরবন সুরক্ষায় বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকা।

    ঘুর্নিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও সুন্দরবন সুরক্ষায় বাজেট বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাসুদ বলেন “প্রতিটি ঘুর্নিঝড় বা প্রকৃতির দুর্যোগে সাতক্ষীরা জেলার উপকুলিয় এলাকা ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির হয়, যার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে উপকূলীয় মানুষের এবং ঝড়ে সুন্দরবনের গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে তোলার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন”।

    এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “উপকূলবাসীকে নিরাপদ রাখতে কারো কোনো মাথাব্যাথা নেই। বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও যে পরিমাণ ব্যয় করা হয় তাতে এ এলাকায় অনেক উন্নত অবকাঠামো করা সম্ভব।” সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ রক্ষায় রিং বাঁধ নির্মান করা দরকার। সংবাদ প্রকাশঃ ৩০-০৫-২০২৪ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন=

    আরো সংবাদ পড়ুন

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    - Advertisment -
    Google search engine

    সর্বশেষ সংবাদ

    Recent Comments