দ্বি-মাসিক ‘শ্রমিক বার্তা’র দশ বছর পূর্তিতে লেখক ও গুণীজন সংবর্ধনায় এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি।

শ্রমিক ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান =================শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশে সুশাসন নিশ্চিত এবং ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসানে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে দ্বি-মাসিক ‘শ্রমিক বার্তা’র দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে লেখক ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দ্বি-মাসিক শ্রমিক বার্তার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্কের বিষয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন,
সমাজের প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনোভাবে শ্রমের সঙ্গে যুক্ত। মালিকেরা ব্যবসার উন্নয়ন ও মুনাফা অর্জনের জন্য শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ করেন, আর শ্রমিকেরা জীবিকা নির্বাহের জন্য শ্রম দেন। তাই প্রতিষ্ঠানের মুনাফার একটি ন্যায্য অংশ শ্রমিকদের দেওয়া হলে তাঁদের কর্মস্পৃহা বাড়বে এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শ্রমিকদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এমনকি শ্রমিকনেতারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের প্রত্যাশিত পরিবর্তন হয়নি। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এই প্রচলিত রাজনৈতিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শ্রমিকদের অধিকারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে তাঁদের ন্যায্য পাওনা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাই সনদে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সনদে স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর উচিত নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।
প্রবাসীদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি এবং চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ সরকার শ্রমিকবান্ধব নয়, জনবান্ধবও নয়—এ সরকার চাঁদাবাজ বান্ধব,
জনগণের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান ।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা গেলে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।তিনি শ্রমিক বার্তার সকল কলাকৌশলিএবং দশ বছর পূর্তির সংবর্ধনা আগত উপস্থিতিদেরকে ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানান।
দ্বি-মাসিক শ্রমিক বার্তার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এর সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক লসকর মো. তসলিম স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত লেখক ও গুণীজন সংবর্ধনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুনী এমপি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কবি ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, মাসিক কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক কবি মোশাররফ হোসেন খান, এবং বিশিষ্ট সুবক্তা ও গীতিকার সাইফুল্লাহ মানছুর।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সমাজসেবক এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল জব্বার, লেখক ও গবেষক এবং নাঙ্গলকোট-লালমাই উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস, এস এম ফরহাদ এবং ‘ছাত্র সংবাদ’-এর নির্বাহী সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন,
শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক বার্তা ভবিষ্যতেও সাহসী ভূমিকা পালন করবে। শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকবান্ধব ভূমিকা পালনকারী মালিকদের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে শ্রমিক বার্তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য তিনি উপস্থিত অতিথি, মালিক, শ্রমিক ও লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা
দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে লেখক, সাহিত্যিক, গবেষক ও গুণীজনদের অবদান তুলে ধরে
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাহিত্যচর্চার বিকাশ এবং সমাজ পরিবর্তনে লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দ্বি-মাসিক ‘শ্রমিক বার্তা’র এক দশকের পথচলাকে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, দাবি ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সংবর্ধনা পেলেন
কবি ও গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ,
লেখক ও প্রাবন্ধিক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান,
লেখক ও অনুবাদক আলী আহমাদ মাবরুর,
লেখক ও প্রাবন্ধিক আশীষ মাহমুদ
কবি ও সাহিত্যিক শামসুন্নাহার সুমনা,

গুনিজন যারা সংবর্ধিত হলো,
জিনাত অ্যাপারেলস লিমিটেড (ডিবিএল গ্রুপছবিপাড়ায় )-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক
মোহাম্মদ আবদুর রহীম (ফিরোজ),
ফকির গ্রুপের পরিচালক
মুনজারিন জামান,
ইপিলিয়ন গ্রুপের সিইও
সাদরুল আমিন ভূঁইয়া,
আদজি ট্রিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
মোহাম্মদ শাহরিয়ার,
ইব্রাহিম নিট গার্মেন্টস (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
কানিজ ফাতিমা রীমা,
বাঁধন ফ্যাশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বিকেএমইএর পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির।
মাইশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া।

শ্রমিক নেতা যারা সংবর্ধিত হলো,
শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও নির্বাহী পরিচালক, বিলসের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশীদ খাঁন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।
গার্মেন্টস দর্জি শ্রমিক কেন্দ্রের সভাপতি সাহিদা সরকার।
বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি আব্দুল খালেক হাওলাদার। সংবাদ প্রকাশঃ ১০-১০-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন