কৃষিতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় লোকসানের মুখে চাষীরা

সিটিভি নিউজ।। মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি=========কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত। বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়,লোকসানের মুখে চাষীরা। ৮০ শতাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও, জ্বালানি তেলের (ডিজেল) হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি লিটার ডিজেলে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ডিজেলের মূল্য ১৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বোরো, আমন কিংবা বিভিন্ন সবজি চাষ—সবক্ষেত্রেই এখানকার কৃষকদের ডিজেলচালিত সেচ ও যন্ত্রপাতির ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফসলভেদে কৃষকদের উৎপাদন খরচ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। আর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমনিতেই সার, বীজ ও কীটনাশকের চড়া দামের বিপরীতে বাজারে ফসলের কাঙ্ক্ষিত মূল্য মিলছে না। এর ওপর ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা হওয়ায় তা তাদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে। কেবল সেচ দেওয়াই নয়; ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ, মই দেওয়া এবং পরিশেষে ধান মাড়াইয়ের প্রতিটি প্রক্রিয়াই এখন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
কৃষকদের হিসাব বলছে, সেচ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে বিঘাপ্রতি যে পরিমাণ ডিজেল পোড়ে, তাতে শুধু সেচ বাবদই বিঘাপ্রতি ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ বাড়বে। ডিজেল মূল্যবৃদ্ধির এই নেতিবাচক প্রভাব কেবল জমিতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা এবং বাজারে বিক্রি করার পুরো পরিবহন প্রক্রিয়াটিও এখন বাড়তি খরচের বড় এক যাতাকলে পড়েছে।

সব মিলিয়ে কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ধান বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনে সামগ্রিক খরচ আগের তুলনায় ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুনতে হতে পারে, যা প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে। ফসল ফলানোর পর শেষ পর্যন্ত তার ন্যায্য দাম মিলবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় প্রান্তিক চাষিরা।

বিভিন্ন চাষীদের সাথে কথা বলে উঠে আসে তাদের কষ্টের কথা। কীটনাশক আর বীজের দাম তো আগেই বাড়ছিল। এরপর কৃত্রিম সংকটে চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। আর এখন ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা হওয়ায় জমি চাষ থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটা পদক্ষেপে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। বাজারে ফসলের দাম তো আর সেই অনুপাতে বাড়ে না।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে খুব সমস্যা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেচ কাজে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও খরচসাশ্রয়ী সৌরবিদ্যুৎচালিত (সোলার ইরিগেশন) সেচ পাম্প ব্যবহারের ওপর আমরা জোর দেওয়া হচ্ছে।সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন মুকুল বলেন,নওগাঁর কৃষিপণ্য শুধু এ জেলার চাহিদা মেটায় না, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের জোগান দেয়। কিন্তু ডিজেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে চাষিরা একসময় চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। তাই নওগাঁর কৃষি অর্থনীতি সচল রাখতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি খাতে বিশেষ জ্বালানি ভর্তুকি বা সহজ শর্তে প্রণোদনা চালুর জোরালো দাবি জানান। সংবাদ প্রকাশঃ ০১-১০-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন