চালের কার্ডসহ সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন, রাজি না হওয়ায় হয়রানি-ভয়ভীতি এবং সন্তান কে মাদক গাঁজার মামলা দেয়ার অভিযোগ

সিটিভি নিিউজ।। সৌরভ মাহমুদ হারুন ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।============
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে বিধবা এক নারীকে সরকারি সহায়তা চালের কার্ডসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব, যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই নারীকে নানাভাবে হয়রানি, এক ছেলে কে গাঁজার মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এছাড়া ওই নারীর নিকট বড় অংকের চাদা দাবী করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি গভীর রাতে তার বসতঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. আসমা বেগম (৪৫) গত বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ছোটহরিপুর (স্বর্ণকারপাড়া) এলাকার মৃত ফিরোজ মিয়ার স্ত্রী।
থানায় দেওয়া অভিযোগে আসমা বেগম দাবি করেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর চার সন্তান নিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে সরকারি সহায়তার আশায় ইউপি সদস্য মো. আবুল কাসেমের কাছে গেলে তিনি চালের কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তবে এর বিনিময়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে আসমা বেগম অভিযোগ করেন ।
অভিযোগে বলা হয়, ওই কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আবুল কাসেম তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষতিসাধনের হুমকি দিতে থাকেন বলে দাবি করেন আসমা বেগম।তিনি আরও জানান তার বড়……… কে একই গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে ছোয়াকে বিভিন্ন ছলচাতুরী করে বিয়ে পড়ান ৬ লক্ষ টাকা কাবিন করে। এই বিয়ের পর আবুল কাসেম মেম্বার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং তিনি আসমা বেগমের নিকট বড় অংকের চাঁদা দাবী করে। চাদা না দেয়ায় কাসেম মেম্বার আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে আবুল কাসেম তার বসতঘরের দরজার সামনে গিয়ে দরজা খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি দরজা না খোলায় কাসেম মেম্বার দরজায় ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আসমা বেগম চিৎকার করলে তাকে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, ওই ঘটনার পরও বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এতে সাড়া না দিলে তার মান-সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে সন্তানদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসমা বেগমের ছেলে শাকিলকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর একই এলাকার আবুল কাসেম মেম্বারের ঘনিষ্ট জন ফয়সাল বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও শাকিলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তার মা। শাকিলের বিষয়ে ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান—এমনটিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চোরাচালান ও নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগও করেছেন আসমা বেগম।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাকশীমূল ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান , আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল।তার মাদক মামলা একজন স্বাক্ষী ওই ইউনিয়ন পরিষদের সুভাষ নামের একজন দফেদার। এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি সদস্য মো. আবুল কাসেমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমাকে কেউ জানায়নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম।’
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের কপি এখনো আমার হাতে পৌঁছেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কথা আমাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
অভিযোগকারী আসমা বেগম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ প্রকাশঃ ২৪-০৯-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=