রেলওয়ের ১৫ কিলোমিটার রেলপথে ৭ হাজার ক্লিপ ফিসবোল্ট ফিসপ্লেট চুরি, ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচল

সিটিভি নিউজ।। রুকুনুজ্জামান, প্রতিনিধি পার্বতীপুর (দিনাজপুর) : ===============
দিনে রেলপথে পাহারা, রাত নামলেই উধাও হচ্ছে রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম। চিলাহাটি-পার্বতীপুর-বিরামপুর রেলপথের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় আনুমানিক ৭ হাজার প্যান্ড্রল ক্লিপ, ফিস বোল্ট ও ফিসপ্লেট চুরির অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যস্ত এই রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, পার্বতীপুর-বিরামপুর রেলপথের প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং পার্বতীপুর-চিলাহাটি রেলপথের প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় এসব সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই দুই থেকে তিনবার কোথাও না কোথাও প্যান্ড্রল ক্লিপ, ফিস বোল্ট ও ফিসপ্লেট চুরির ঘটনা নজরে আসছে।
এই রুটে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল, লোকাল ও তেলবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রেন চলাচল করে। ফলে রেললাইনের সংযোগ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম চুরি শুধু রেলওয়ের সম্পদের ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টিও।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত এক বছরে ঢাকা-পার্বতীপুর-বিরামপুর রেলপথে প্যান্ড্রল ক্লিপ, ফিস বোল্ট, ফিসপ্লেটসহ বিভিন্ন রেল উপকরণ চুরির ঘটনায় আনুমানিক ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এ হিসাব রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট রাতে পার্বতীপুরের ভবানীপুর রেলস্টেশনের গোডাউন থেকে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা মূল্যের প্যান্ড্রল ক্লিপ, ফিস বোল্ট, ফিসপ্লেট, হ্যামার, হাতুড়ি, শাবল, চার্জার টর্চলাইটসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে রেলওয়ের সংরক্ষিত মালামালের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চুরি ঠেকাতে পিডব্লিউআই কার্যালয় থেকে বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্বতীপুর-বিরামপুর রেলপথের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একজন মিস্ত্রির নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ওয়েম্যান দল দায়িত্ব পালন করছে। অন্যদিকে পার্বতীপুর-চিলাহাটি অংশের প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে আরও আট সদস্যের একটি দল।
কর্মকর্তাদের দাবি, দিনের বেলায় পাহারা থাকলেও রাতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চুরি প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়েছে। একই জনবল দিয়ে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি-ভবানীপুর অংশের প্রায় ১৩ কিলোমিটার রেলপথ পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি মেইন রেললাইনের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করতে হচ্ছে।
পার্বতীপুরে কর্মরত রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/পথ (পিডব্লিউআই) শেখ আল আমিন বলেন, রাতে মধ্যপাড়া পাথরখনি-ভবানীপুরের ১৩ কিলোমিটার রেললাইন পাহারায় ২০ থেকে ২৫ জন দায়িত্ব পালন করছেন। একই লোকবল দিয়ে দিনের বেলায় ১৫ কিলোমিটার মেইন রেললাইন—পার্বতীপুর-বিরামপুর ও পার্বতীপুর-চিলাহাটি অংশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে রেলপথের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও ব্যাহত হচ্ছে। জনবল বাড়ানোর জন্য চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পর্যাপ্ত জনবল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ রেল উপকরণ চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। চুরি হওয়া ক্লিপ, বোল্ট ও ফিসপ্লেট দ্রুত শনাক্ত করে প্রতিস্থাপন করা না হলে রেলপথের স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উন নবী বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ধরনের চুরির ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরির ঘটনা যদি নিয়মিতই ঘটে থাকে, তাহলে সেসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে? চুরি যাওয়া মালামালের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, মামলা বা সাধারণ ডায়েরির তথ্য এবং চুরি-পরবর্তী প্রতিস্থাপনের নথি কতটা সংরক্ষণ করা হচ্ছে—তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম চুরির ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সমন্বিত তদন্ত করা প্রয়োজন। চুরি হওয়া মালামাল কোথায় যাচ্ছে, কারা এসব সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং চুরির পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে ভবানীপুর রেলস্টেশনের গোডাউন থেকে চুরির অভিযোগের তদন্ত, রেলওয়ের সংরক্ষিত মালামালের হিসাব যাচাই, রাতের পাহারা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারণ রেললাইনের প্যান্ড্রল ক্লিপ, ফিস বোল্ট ও ফিসপ্লেট নিছক লোহার সরঞ্জাম নয়, রেলপথের স্থায়িত্ব ও নিরাপদ ট্রেন চলাচলের সঙ্গে এসব উপকরণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই চুরি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ প্রকাশঃ ৩০-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=