বুড়িচংয়ে ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ আবেদন-সাক্ষাৎকার ছাড়াই নিয়োগ! ইউএনওর প্রত্যাহার দাবি বিএনপি নেতাকর্মীদের

সিটিভি নিউজ।। সৌরভ মাহমুদ হারুন, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি। ===============
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবেদন না করে এবং নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত না হয়েও কয়েকজনকে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেনের প্রত্যাহার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় বুড়িচং উপজেলার একটি পৌরসভা ও আট ইউনিয়ন থেকে তথ্য সংগ্রহকারী সুপারভাইজার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য গত ২৯ ও ৩০ জুলাই আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ৭ আগস্ট নিয়োগপ্রাপ্ত সুপারভাইজারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
তালিকা প্রকাশের পরই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, বাকশীমূল ইউনিয়নের মাহমুদুল হাসান মিলন আবেদন না করেও এবং নিয়োগ বোর্ডের সাক্ষাৎকারে উপস্থিত না হয়েও সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। একই অভিযোগ উঠেছে ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া গ্রামের মনির হোসেন, একই ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের বাবুল, আগানগর গ্রামের শুভ এবং বুড়িচং পৌরসভার আরাগ আনন্দপুর গ্রামের মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অনেকেই নিয়ম মেনে আবেদন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পাননি। অথচ আবেদন ও সাক্ষাৎকারে অংশ না নেওয়া ব্যক্তিদের নাম তালিকায় আসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেনের প্রত্যাহার দাবি করে প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রচারণায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান মনির, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আব্দুল আলিম, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য ইকরাম হোসেন ভূইয়া, বাকশীমূল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক পলাশ, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন জয়, সভাপতি জহিরুল হকসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আব্দুল আলিম বলেন, “নিয়োগের সময় উপস্থিত না হয়েও ষোলনল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম থেকে কয়েকজন নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ আমাদের দলীয় কর্মীরা উপস্থিত থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েও নিয়োগ পাননি। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। ইউএনও সাহেবের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীরা চরম হতাশ। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ চলছে।”
বুড়িচং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান মনির বলেন, “মাহমুদুল হাসান মিলন আবেদন না করেও তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি ইউএনও মো. তানভীর হোসেনের প্রত্যাহার দাবি করছি।”
তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, “যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ করছেন, তা সত্য নয়।”
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে বুড়িচংয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। সংবাদ প্রকাশঃ ০৮-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন