সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিকারে আমাদের করণীয়===মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার

সিটিভি নিউজ।। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা। এছাড়া চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার ও ওভারটেকিং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিকারের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি, নিয়মিত যানের ফিটনেস পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব’। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সরকার বা চালকদের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের সব মানুষের দায়িত্ব। পথচারী থেকে শুরু করে সকল নাগরিকের দায়িত্ব। সবাইকে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নিরাপদ সড়ক উপহার দেয়া আমাদের সবার ঈমানি দায়িত্ব। আর দিন যত যাচ্ছে দীর্ঘ হচ্ছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। থেমে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় আগামীর স্বপ্ন। কেই যেন দেখছে না। শুনছে না স্বজনদের আহাজারি। এতো নিয়ম ও আইন তবুও থামানো যাচ্চে না এই যাত্রা।আর মৃত্যু দুর্ঘটনায় হয়েছে—এটা তখনই বলা যায়, যখন এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সব ধরনের যৌক্তিক, বৈজ্ঞানিক ও অভিজ্ঞতালব্ধ ব্যবস্থা নেওয়ার পরও সেটি ঘটে। কিন্তু দেশের সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিটি আনাচে-কানাচে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকলে এবং এ বিষয়ে বছরের পর বছর সরকারি তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, জনসাধারণের ক্ষোভ ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থাকলে, সেটাকে আর ‘দুর্ঘটনা’ বলা যায় না। বরং সেটা হয়ে যায় অবহেলাজনিত ‘হত্যা’। আইন অনুযায়ী এগুলো প্রতিহত করার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই এর জন্য দায়ী। যারা দায়িত্বে আছেন, তাদেরকে এ ধরনের গুরুতর অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা উচিত। দেশে যদি স্বাধীনভাবে আইনের শাসন প্রচলিত থাকত, তাহলে সেটা সম্ভব হতো। অনেকের ভাগ্যে সড়কে হত্যার বিচার তো দূরের কথা ক্ষতিপূরণটাও মিলছে না। আবার অনেক মানুষ তো জানেই না সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলো : ১. ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ২. গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ৩. অতিরিক্ত যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন, ৪. ট্রাফিক আইন না মানা, ৫. সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, ৬. চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা ও অসতর্কতা ৭. অরক্ষিত রেললাইন, ৮. অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ওভারটেকিং ৯. রোড ডিভাইডার না থাকা, ১০. চালকদের অদক্ষতা ও সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকা, ১১. যাত্রীদের রাস্তা পারাপারে অসচেতনতা, ১২. যেখানে যেখানে যাত্রী ওঠানামা করা, ১৩. ভাঙা রাস্তা, ১৪. এবং ট্রাফিক আইনের প্রতি চালক ও যাত্রীর অনাস্থা। এভাবে নানাবিধ কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ দুর্ঘটনা থেকে জাতি পরিত্রাণ চায়।
যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। মৃত্যু যদি অকাল ও আকস্মিক হয় তবে তা মেনে নেয়া আরও কঠিন। পরিশেষে বলতে চাই, বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন এক হাজারের বেশি শিশু এবং ৩০ বছরের কম বয়সী যুবক রোডক্র্যাশে মারা যায়। বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ২৩ জন রোডক্র্যাশে প্রাণ হারান। অথচ এই মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। জাতিসংঘ নির্ধারিত নিরাপত্তা কৌশল অনুসরণ করে এই প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানো সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন।আর বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকার বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমাদের সকলের দাবি, সড়ক নিরাপত্তার সংস্কার ভাবনায় সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করতে হবে।আর গণমাধ্যম গণজাগরণের হাতিয়ার।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় : বর্তমান সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা এক আতঙ্কের নাম। দুর্ঘটনায় খালি হচ্ছে হাজারো মায়ের কোল। প্রতিদিন পত্রপত্রিকা খুললে খবর পাওয়া যায় সড়ক দুর্ঘটনার। এসব খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা মনে করি, সরকারের একার পক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সবার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দরকার। গণমাধ্যম, সুধীসমাজ, বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও, ছাত্রসমাজ, যাত্রী, চালক, পথচারীসহ রাষ্ট্রের জনগণকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। তবে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ সরকারই নিতে পারে।অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অনেক আইন রয়েছে, কিন্তু সেসব আইনের প্রয়োগ নেই। আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের আরো কঠোর হওয়া উচিত। আর সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সর্বপ্রথম সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো খতিয়ে বের করা আবশ্যক। প্রধান কারণ হচ্ছে অসচেতনতা।
এছাড়া রয়েছে অদক্ষ ও অশিক্ষিত চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা, দুর্নীতি, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, অপরিকল্পিত ও ভঙ্গুর সড়ক, ওভারক্রসিং, অতিরিক্ত গতি, ওভারব্রিজের স্বল্পতা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতি, অনিয়ম, বিপজ্জনক ট্রাক, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালক এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানো। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নিয়মিত টেলিভিশনে সচেতনতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করা, টকশোর ব্যবস্থা করা, পত্রপত্রিকায় নিয়মিত এ বিষয়ে লেখালেখি করা দরকার। যদিও এ বিষয়ে গণমাধ্যম যথেষ্ট সোচ্চার; আরো সোচ্চার হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই। সরকার উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সড়ক আইনের প্রয়োগ করে দেশের অভিশাপ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করবে, আমরা তা আশা করি।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সরকার, চালক, মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে- মনে রাখতে হবে,সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।তবেই নিরাপদ হবে সড়ক। কমবে মৃত্যুর মিছিল।তবে সরকারের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং চালক ও সাধারণ জনগনের সচেতনতার মাধ্যমে সড়কে কমবে মৃত্যুহার, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
দুর্ঘটনায় মৃত্যু আমরা কেউই দেখতে চাই না।যেহেতু একটি গাড়ির চলন্ত অবস্থায় তার পুরো নিয়ন্ত্রণটাই থাকে গাড়ির চালকের হাতে, সেই হিসেবে বলা যায় ড্রাইভিং এর সময় বেশ কিছু বিষয়ে গাড়ির চালকের সচেতনতা ও সতর্কতাই দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে অনেকাংশে।
লেখক:চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ,শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী। সংবাদ প্রকাশঃ ১০-০৪-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=