চৌদ্দগ্রামে শ্রেণীকক্ষে সহপাঠিদের সামনে শিক্ষকের অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

সিটিভি নিউজ।। মনোয়ার হোসেন চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:=====================
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শ্রেণীকক্ষে সহপাঠিদের সামনে ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়া নামে এক স্কুলছাত্রী শিক্ষকের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। ঐ স্কুলছাত্রী একই ইউনিয়নের চিওড়া বেগম ফয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ও রুহুল আমিন-রাজিয়া সুলতানা দম্পত্তির সন্তান। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকালে পুলিশ স্কুলছাত্রীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। আত্মহত্যার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসাইন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মত ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়া মঙ্গলবার সকালে স্কুলে যায়। এ সময়ে ওই স্কুলের ইংরেজী শিক্ষক আবুল কাশেম ফারিয়ার কাছে স্মার্টফোন রয়েছে বলে জানতে পারে। পরে তার ব্যাগ তল্লাশী করে মোবাইল ফোনটি হাতে নিয়ে গ্যালারীতে থাকা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখে সহপাঠিদের সামনেই তাকে অশ্লীল ভাষায় কথা বলে অপমান করে। পরে মোবাইল ফোনটি ওই শিক্ষকের জিম্মায় রেখে দেয়। সহপাঠিদের সামনে অপমান করার বিষয়টি ফারিয়া মেনে নিতে পারেনি। স্কুল বিরতিতে সে বাড়িতে ফিরে আসে। কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ রুমে দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্নহত্যা করে। এর আগে সকালে ফারিয়া মা রাজিয়া সুলতানা অসুস্থ্যতা জনিত কারণে ডাক্তার দেখাতে কুমিল্লা শহরে চলে যায়| দীর্ঘ সময় ফারিয়ার রুমের দরজা বন্ধ থাকায় তার কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উকি মেরে দেখে সে গলায় ফাঁস দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে। এ সময়ে তাদের আত্নচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে রুমের দরজা ভেঙ্গে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে নিচে নামায়| খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়া মা রাজিয়া সুলতানা জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে শারিরীক ভাবে অসুস্থ্য| মঙ্গলবার সকালে আমি ডাক্তার দেখাতে কুমিল্লা শহরে চলে যাই। আমার মেয়ে প্রতিদিনের মত স্বাভাবিক ভাবে স্কুলে যায়। বিকালে বাড়ি থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয়েছে ফারিয়া আত্নহত্যা করেছে। পরে বিভিন্ন ভাবে জানতে পারলাম স্কুলে তার ইংরেজি শিক্ষক আবুল কাশেম তাকে ক্লাস চলাকালীন সময়ে মেয়ের স্কুলের ব্যাগ থেকে একটি স্মার্টফোন বের করে নিয়ে যায়| লক খুলে গ্যালারীতে গিয়ে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখে সহপাঠিদের সামনে অপমান করে। অপমান সইতে না পেরে দুপুরে স্কুল বিরতির সময়ে বাড়িতে এসে সবার অগোচরে ফ্যানের সাথে ঝুলে সে আত্নহত্যা করে।
অভিযুক্ত ইংরেজী শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। ফারিয়ার কাছে মোবাইল রয়েছে বলে জানতে পেরে তার ব্যাগ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করি। কিন্তু আমি তাকে অপমানজনক কিছু করেনি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জহিরুল কাইয়ুম বলেন, ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়া নামে আমার এক শিক্ষার্থী আত্নহত্যা করে এমন মৃত্যুর সংবাদটি আমি আজ (বুধবার) জানতে পারি| খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম মঙ্গলবার শ্রেণীকক্ষে স্কুলের ইংরেজী শিক্ষক আবুল কাশেম ফারিয়ার ব্যাগ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করে কিন্তু এই বিষয়ে ঔই শিক্ষক আমাকে কিছু জানায়নি। বর্তমানে ফোনটি স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষিকার নিকট রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসাইন বলেন, চিওড়া চরপাড়া গ্রামে ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়া নামে এক স্কুলছাত্রীর আত্নহত্যার সংবাদ পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে লাশ উদ্ধার করে মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। তবে কি কারণে আত্নহত্যা করেছে এই বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ প্রকাশঃ ০৮-০৪-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=