ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার স্পষ্ট বার্তা দিলেন ডাঃ শফিকুর রহমান

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার স্পষ্ট বার্তা দিলেন ডাঃ শফিকুর রহমান

কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির
নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা জামায়াতের পলিসি সামিট

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান =====
নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রভাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে দলটির উদ্যোগে আয়োজিত পলিসি সামিট ২০২৬ এ এই রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
সামিটের মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ শুধু একটি নির্বাচন সামনে দাঁড়িয়ে নেই, বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার দিশা নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।”
ডাঃ শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর দেশ এখন এক সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় নির্বাচন একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও অনেক বেশি—এটি রাষ্ট্রের নৈতিকতা, জবাবদিহি ও মানবিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ।
তিনি বলেন, “বর্তমান চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।”
শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান সংকট, নারীদের কাঠামোগত বাধা এবং কঠোর পরিশ্রম করেও সাধারণ মানুষের দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ে যাওয়ার বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একমাত্র সাফল্যের মানদণ্ড হতে পারে না। বরং এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে জীবন পরিকল্পনা করতে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করছে না, বরং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত রাখছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবীরা শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তারা
দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানকে বিনিয়োগের পার্শ্বফল নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক শ্রম খাতকে ধাপে ধাপে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নারীর ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নারীর অংশগ্রহণ শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জনসংখ্যার অর্ধেককে বাদ দিয়ে কোনো দেশ টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।”
এই পলিসি সামিটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, তুরস্কসহ প্রায় ৩০টি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সম্মেলনের গুরুত্ব বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সামিটে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। এ সময় তিনি বলেন, “এই পলিসি সামিটে উপস্থাপিত পরিকল্পনা ও রূপরেখা বাস্তবায়নে কুমিল্লা-৬ আসনের সাধারণ মানুষ ইনশাআল্লাহ পূর্ণ সমর্থন দেবে।” তিনি আরও বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

পলিসি সামিটে যুগান্তকারী পরিকল্পনা তুলে ধরল জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান

নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীতে আয়োজিত পলিসি সামিট–২০২৬–এ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও উপস্থাপনার মাধ্যমে দলটির পক্ষ থেকে এসব পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়।
সামিটে জানানো হয়, প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ ট্যালেন্ট সেন্টার’ (ইয়ুথ ট্যাকলেট) স্থাপন করা হবে, যেখানে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য বাস্তবভিত্তিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
শিক্ষা খাতে বড় উদ্যোগ হিসেবে বহির্বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবছর ১০০ জন শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে সরকারিভাবে পাঠানো, মেধাভিত্তিক এক লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ঋণ, এবং পাঁচ লক্ষ গ্র্যাজুয়েটের জন্য দুই বছর মেয়াদি মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানি সহজ করতে ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট, এবং লক্ষ লক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।
আইসিটি খাতের উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করা হয় এবং এই খাত থেকে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে আইসিটি খাতে সরকারের বিপুল অঙ্কের ব্যয় সাশ্রয়ের কথাও জানানো হয়।
শিল্পখাত পুনরুজ্জীবনে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) পুনরায় চালু করা হবে এবং এসব কারখানার ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন শিল্পের জন্য প্রথম তিন বছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যখাতে বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিক ও পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, এবং ‘ফাস্ট হ্যান্ডেল ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় প্রসূতি নারী ও মায়েদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৬–৮ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ রাখার কথাও জানানো হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবাসহ সব সুবিধা এক কার্ডে যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ এবং কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে অন্তত ৫০ লাখ চাকরির সুযোগে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এ ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও চাকরি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
নারী ও তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে পাঁচ লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি, এবং ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজকে সমন্বিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও সামিটে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
সামিটে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতের এই পলিসি সামিট শুধু নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে—সে বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট আদর্শিক ও নীতিগত বার্তা দিয়েছে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদ প্রকাশঃ ২০-০১-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন