সিটিভি নিউজ।। মানিক ঘোষ নিজস্ব প্রতিনিধি:==============
দারিদ্র্য তার মেধাকে হার মানাতে পারেনি, থামাতে পারেনি স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলা। একের পর এক ভালো ফলাফলে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী রুকাইয়া পারভীন। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অর্জন করেছে গোল্ডেন এ প্লাস। স্বপ্ন তার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু মেধা থাকলেও সেই স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।
কালীগঞ্জ পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের রকিব মল্লিক ও লাভলী ইয়াসমিন দম্পতির কনিষ্ঠ কন্যা রুকাইয়া। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে সে। ২০২৪ সালে সলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে। এরপর সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখে।
তবে রুকাইয়ার এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা মোটেও সহজ নয়। তার বাবা রকিব মল্লিক একজন সামান্য ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচালক। প্রতিদিন ইজিবাইক চালিয়ে যে সামান্য অর্থ উপার্জন করেন, তা দিয়ে কোনোমতে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। নিত্যদিনের সংসার খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অথচ মেয়েকে নিয়ে বাবার স্বপ্ন অনেক বড়। মেয়ের মেধা ও ভালো ফলাফল দেখে তিনি চান, রুকাইয়া দেশের ভালো কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক। বর্তমানে রুকাইয়া খুলনায় অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য কোচিং করছে। কিন্তু কোচিং ও উচ্চশিক্ষার ব্যয় কীভাবে জোগাড় হবে, সেই চিন্তায় দিশেহারা পরিবারটি।
রুকাইয়া পারভীন জানায়, ছোটবেলা থেকেই ভালোভাবে পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হতে চায়। তার স্বপ্ন বুয়েটে ভালো বিষয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে সে।
আক্ষেপ নিয়ে রুকাইয়া বলে, আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। বাবার একার পক্ষে আমার উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা কঠিন। অনেক সময় মনে হয়, অর্থের অভাবে হয়তো আমার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে। সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব। একদিন নিজের স্বপ্ন পূরণ করে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’
রুকাইয়ার বাবা রকিব মল্লিক বলেন, আমার মেয়ের পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। ছোটবেলা থেকেই ভালো ফলাফল করে আসছে। সে একজন প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আমিও চাই, মেয়েকে ভালো একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে উচ্চশিক্ষিত করতে। কিন্তু আমি একজন সামান্য ইজিবাইকচালক। প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা শিক্ষানুরাগী মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে মেয়েটি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। আমি চাই না, আর্থিক অভাবের কারণে আমার মেয়ের মেধা ও স্বপ্ন ঝরে যাক।’
রুকাইয়ার পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তার অসাধারণ ফলাফল, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের কথা বিবেচনা করে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবেন।
একজন ইজিবাইকচালকের মেয়ের চোখে বুয়েটে পড়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন শুধু একটু সহযোগিতা, একটু মানবিকতা। অর্থের অভাবে যেন হারিয়ে না যায় রুকাইয়ার মতো একটি মেধাবী প্রতিভা। সংবাদ প্রকাশঃ ০৪-১১-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুকী তাপস
মোবাইল: 01711335013
www.ctvnews24.com