সিটিভি নিউজ।। নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :সংবাদদাতা জানান ===========নওগাঁর মহাদেবপুরে নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের টেন্ডার ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হাছান। তবে সব নিয়মকানুন উপেক্ষা করে পরিষদ চত্বরে নিজের ইচ্ছামতো প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ শুরু করায় শেষ পর্যন্ত তা বন্ধ করে দিয়েছেন ইউএনও মানজুরা মশাররফ।
ভবনটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিষদের লিজকৃত পুকুরের অর্থ ও অন্যান্য আয় দিয়ে চেয়ারম্যান একক ক্ষমতাবলে এই কাজ শুরু করেন। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের দাবি, তিনি জনস্বার্থে নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের একটি জরাজীর্ণ ভবনে বর্তমানে কৃষি ব্যাংকের স্থানীয় শাখার কার্যক্রম চলছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্যাংকটি অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। মূলত ব্যাংকটি পরিষদে ধরে রাখতেই নতুন দোতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান।
সরেজমিনে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের জন্য রড দিয়ে কয়েকটি পিলারের কাজ করা হয়েছে এবং আশেপাশে নিম্নমানের খোয়া ও দুই ধরনের বালু রাখা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি জমিতে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে হলে নকশা অনুমোদন, প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ ও টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করতে হয়। কিন্তু এসব আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই কাজ শুরু করা হয়।
এ বিষয়ে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি কুদ্দুস বলেন, "১২ শ বর্গফুটের ওই বিল্ডিংয়ের কাজটির জন্য আমরা মিস্ত্রি ও শ্রমিকের কন্ট্রাক্ট নিয়েছি। এই ইউনিয়নের কৃষক দলের সহ-সভাপতি আমার চাচাই মূল রাজমিস্ত্রি। চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আমরা শুধু ৩ লাখ টাকার চুক্তিতে মিস্ত্রির দায়িত্ব নিয়েছি। রড-সিমেন্টসহ সব মালামাল চেয়ারম্যান নিজে দিচ্ছেন। তবে এখন শুনছি ১৮ শ বর্গফুটের হবে, সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের সাথে নতুন করে চুক্তি করতে হবে।" মূল মিস্ত্রির মতে, ১২ শ ফুটের এই ভবন নির্মাণ করতে কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হবে।
এদিকে সেখানে উপস্থিত এক স্থানীয় বিএনপি নেতা নিজেকে ঠিকাদার দাবি করে বলেন, টেন্ডার ছাড়া কোনোক্রমেই চেয়ারম্যান এই নির্মাণকাজ করতে পারেন না।
স্থানীয় রুবায়েত কবির হৃদয়সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, জরাজীর্ণ ভবনের কারণে নিরাপত্তার খাতিরে ব্যাংকটি উঠে যেতে চাচ্ছে। ব্যাংকটি ধরে রাখতে এলাকাবাসীর প্রয়োজনেই মূলত দোতলা ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনটি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত তহবিল ও পরিষদের লিজকৃত পুকুরের আয় দিয়ে করা হচ্ছে বলে তারা শুনেছেন। এছাড়া দোতলায় কৃষি ব্যাংক এবং নিচতলায় গ্রামীণ ব্যাংক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তারা।
ইউপি সদস্য সাইদুর জানান, পরিষদে কৃষি ব্যাংক ভাড়া দেওয়া ছিল। ওটা ভেঙে যাওয়ার কারণে পরিষদ থেকে এই ভবন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো বাজেট বা কীভাবে কাজ হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। এমনকি পরিষদ চত্বরে কী হচ্ছে, তা জানেন না ইউনিয়ন পরিষদের সচিবও!
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হাছান বলেন, "ওখানে আপাতত কোনো বরাদ্দ হয়নি। কাজ করতে লেগেছিলাম কিন্তু ঝামেলা হওয়ার কারণে বন্ধ রেখেছি। যেটুকু কাজ করেছি, কোথাও থেকে কোনো টাকা নিইনি, আমার ব্যক্তিগত টাকা দিয়েই করেছি।" সরকারি জায়গায় ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে ভবন নির্মাণ করা যায় কি না—এমন প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ভাই, এত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ জানান, কেবল প্রকল্পের রেজুলেশন অনুমোদন হয়েছে, তবে কোনো কোটেশন বা ঠিকাদার এখনো ঠিক হয়নি। ডিজাইনসহ অনেক বিষয়ের অনুমোদন বাকি রয়েছে। আর সরকারি জায়গায় কারো ব্যক্তিগত টাকায় ভবন তোলারও কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, "বিষয়টি জানার পরপরই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষি ব্যাংকের জন্য সেখানে একটি প্রকল্প দরকার আছে এবং তা বিধিগম্যভাবেই হবে। কিন্তু চেয়ারম্যান যেভাবে কাজ শুরু করেছিলেন, তা অন্যায়।"
সচেতন মহল মনে করছেন, দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে কোনো নির্মাণকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন ও বিধিবিধান শতভাগ অনুসরণ করা জরুরি। কেবল নির্মাণকাজ বন্ধ করেই যেন বিষয়টি শেষ না হয়; বরং ভবন নির্মাণের বৈধতা ও অর্থের উৎস খতিয়ে দেখতে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংবাদ প্রকাশঃ ০৩-১১-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুকী তাপস
মোবাইল: 01711335013
www.ctvnews24.com