নাটোর পুলিশের গর্বিত অর্জন! সাইবার অপরাধ দমনে লালপুর ওসির সাফল্যে প্রশংসার ঝড়, পুরস্কৃত করলেন পুলিশ সুপার

সিটিভি নিউজ24 ।। মোঃ সুজন মাহমুদ | নাটোর নাটোর জেলা সংবাদদাতা জানান —–সাইবার অপরাধের অন্ধকার জগতে যখন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে প্রতারণার কৌশল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আলোচনায় নাটোরের লালপুর থানা পুলিশ। সাইবার অপরাধ দমনে ধারাবাহিক সাফল্য, একের পর এক আসামি গ্রেপ্তার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে এবার জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পেলেন লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম।
২৫ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার। নাটোর জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যাণ সভায় লালপুর থানার এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ওসি মোঃ শফিকুল ইসলামকে পুরস্কৃত করেন নাটোরের পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ শরীফুল হক।
এ যেন শুধু একটি পুরস্কার নয়—সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
মাত্র এক মাসে ৭টি মামলা, গ্রেপ্তার ১৯ জন!
লালপুর থানার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাইবার সুরক্ষা আইনে ৭টি মামলা রুজু করা হয়। এসব মামলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত ১৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা যখন সাধারণ মানুষের অন্যতম উদ্বেগ, তখন এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পুলিশি পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে জনমনে স্বস্তি জোগায়। আর সেই কার্যক্রমে লালপুর থানার এই অর্জন জেলা পুলিশের সামগ্রিক কর্মদক্ষতারও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ওসি মোঃ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্ব, অধীনস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অপরাধ দমনে দায়িত্বশীল ভূমিকা।
সাফল্যের স্বীকৃতিতে পুলিশ সুপার, পাশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
নাটোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক শুধু পুরস্কার প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। অপরাধ দমনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ইফতে খায়ের আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নাটোর সার্কেল উদয় কুমার সাহাসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ কল্যাণ, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের উৎসাহিত করার এ উদ্যোগ জেলা পুলিশের কার্যক্রমে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
ওসির কৃতজ্ঞতা, সহকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি
পুরস্কারপ্রাপ্তির পর লালপুর থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম নাটোরের পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এ সাফল্যের পেছনে যেসব কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান। কৃতজ্ঞতা জানান সাংবাদিকদেরও।
তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—পুলিশের সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির অর্জন নয়; বরং নেতৃত্ব, দলগত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্মিলিত ফল।
জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের সবচেয়ে বড় পুরস্কার
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রকৃত সাফল্য শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার কিংবা পুরস্কার অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
লালপুর থানার সাইবার অপরাধ দমনে এই সাফল্য সেই প্রত্যাশাকেই আরও জোরালো করেছে।
নাটোর জেলা পুলিশের নেতৃত্বে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইফতে খায়ের আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপরাধ দমনের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
সততা, নিষ্ঠা ও জনসেবার স্বীকৃতি হোক আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা।