সিটিভি নিউজ24।। মোঃ সুজন মাহমুদ |নাটোর জেলা সংবাদদাতা জানান-----
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের কার্যালয়ের স্টাফ পরিচয়! রাজনৈতিক পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন! সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস! আর সেই পরিচয়কে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ! নাটোরের সিংড়ায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আবু হুরায়রা ওরফে খালিদ হাসান। তিনি সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রংপুর বেতারের বরখাস্তকৃত টেকনিশিয়ান।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের নাম ও কার্যালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কীভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন তিনি? কারা তাঁর এই পরিচয়ের ওপর আস্থা রেখেছিলেন? আর সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে কতজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে অর্থ?
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নাটোরের সিংড়া পৌর এলাকার বালুয়াবাসুয়া মহল্লায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন খালিদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।
পুলিশের অভিযোগ, ডিজিটাল মাধ্যম ও মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করে রাজনৈতিক পদ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতেন তিনি। তবে এই প্রতারণার পরিধি কতটা বিস্তৃত? তাঁর সঙ্গে আর কারা জড়িত? নাকি একাই পরিচালনা করতেন এই প্রতারণার কার্যক্রম?
আরও উদ্বেগের বিষয়, পুলিশের অপরাধ রেকর্ড পর্যালোচনায় খালিদ হাসানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক পূর্বের মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পল্টন, সাভার, জামালপুর সদর, বগুড়ার গাবতলী এবং নাটোরের সিংড়া—বিভিন্ন এলাকার মামলার নথিতে উঠে এসেছে তাঁর নাম।
তবে এখানেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এসব মামলার মধ্যে বর্তমানে কয়টি বিচারাধীন? কোন মামলায় কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে? আর পূর্বের মামলাগুলোর পরও কীভাবে তিনি নতুন করে এমন প্রতারণার অভিযোগে জড়ালেন?
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কিন্তু শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করেই কি থামবে এই প্রতারণার শিকড় অনুসন্ধান? প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের নাম ব্যবহার করে যদি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই পরিচয়ের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার? আর রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগের পেছনে যদি আরও কেউ থেকে থাকেন, তাঁদের মুখোশ উন্মোচন হবে কবে?
সিংড়ার এই গ্রেপ্তার কি কেবল একটি প্রতারণার ঘটনার পরিণতি, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনো চক্রের সন্ধান?
উঠছে নানা প্রশ্ন। এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুকী তাপস
মোবাইল: 01711335013
www.ctvnews24.com