শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও আট ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিত করতে হবে ==অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান =======
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, আট ঘণ্টা কর্মদিবস, ঝুঁকি ভাতা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রতিটি খাতে শ্রমিকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। সরকার পরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য দূর হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের লেকচার গ্যালারিতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাজশাহী অঞ্চলের ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি-সেক্রেটারি সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজশাহী মহানগরী শাখার সভাপতি আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফেডারেশনের রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুস সবুর, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. জিয়াউর হক ও অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম।
আতিকুর রহমান বলেন, ২০২৩ সালে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলনের সময় গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে চারজন শ্রমিক নিহত হন। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানাতে গিয়ে যদি জীবন দিতে হয়, তাহলে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
কৃষকদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকেরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ফসল উৎপাদন করেন। তাঁদের শ্রমে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে গেলেও কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় প্রয়োজনীয় সারও পাওয়া যায় না। অথচ মধ্যস্বত্বভোগীরা নানা সুবিধা ভোগ করেন। সার বিতরণ ও ডিলারশিপ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে সার ডিলারশিপ দেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবহন শ্রমিকদের অবদানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদে মানুষ যখন পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরেন, তখন পরিবহন শ্রমিকেরা দিনরাত পরিশ্রম করে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক নিজেরাই পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন না। অথচ তাঁদের শ্রম ও ত্যাগ যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।
পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের পরিস্থিতি তুলে ধরে ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পোশাকশিল্পের বড় অবদান রয়েছে। কিন্তু এ খাতের শ্রমিকদের বেতন কাঠামো, সামাজিক মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ না করলে শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অথচ তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অনেক শ্রমিককে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়, অথচ তাঁরা যথাযথ ওভারটাইম পান না। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আট ঘণ্টা কর্মদিবস, ন্যায্য মজুরি, ঝুঁকি ভাতা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ট্রেড ইউনিয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর করতে সংগঠিত আন্দোলনের বিকল্প নেই।
সরকারের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সরকারকে জনবান্ধব হয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে দেশ ও জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। সংবাদ প্রকাশঃ ২৩-১০-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=