কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পেতে চান দিনমজুর হাকিম

সিটিভি নিউজ24 ।। নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বিরোধের অভিযোগ তুলেছেন দিনমজুর মো. হাকিম। তাঁর অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর মা ও খালার সম্পত্তি এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে তাঁকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় তিনি প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ করেছেন।
২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন চা দোকানদার হাকিম। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম তারা মিয়া এবং মা মৃত কদরের নেছা।
লিখিত বক্তব্যে হাকিম জানান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ১৮/১৮/১৯ নম্বর এলএ মামলা ও ৫৭২ নম্বর খতিয়ানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে তাঁর আইনগত দাবি রয়েছে। তাঁর দাবি, মৃতঃ মা কদরের নেছা ও খালা মৃতঃ বদরের নেছার সম্পত্তি এবং ক্ষতিপূরণের অর্থে উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর প্রাপ্য অধিকার রয়েছে।
হাকিমের অভিযোগ, হুমায়ুন কবির গং, কবির হোসেন ও কামাল হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং মারধরের হুমকি দিয়ে আসছে। এনিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলএ-সংক্রান্ত শুনানিতে যাওয়ার পথেও তিনি বাধার সম্মুখীন হন বলে দাবি করেন। পরে নিকটাত্মীয়দের সহায়তায় শুনানিতে যাওয়ার সুযোগ পান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর মা মানসিক ভারসাম্যহীন থাকা অবস্থায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে জাল দলিল তৈরি করে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং দলিলপত্রের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে হাকিম সংশ্লিষ্ট এলএ মামলা, খতিয়ান, দলিল, ওয়ারিশ সনদ ও ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্য নির্ধারণ, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
হাকিম বলেন, তিনি কোনো সংঘাত চান না, বরং আইন অনুযায়ী নিজের অধিকার ও ন্যায়বিচার চান। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে মোঃ হাকিম এর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে বক্তব্য রাখেন একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ রাসেল।