খামারের দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষেও টেকা দায়, কালীগঞ্জে কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

সিটিভি নিউজ।। মানিক ঘোষ, নিজস্ব প্রতিনিধি =========================
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাখিয়া দাখিল মাদ্রাসার পাশের একটি পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। তীব্র দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকতে কষ্ট হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কখনো কখনো শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্র ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বারপাখিয়া গ্রামের প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মলিনা বেগম নিজ বাড়িতে পোল্ট্রি খামার পরিচালনা করছেন। মাদ্রাসার কাছাকাছি হওয়ায় খামার থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালিন বলেন, ‘দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করতে খুব কষ্ট হয়। বাতাসে সব সময় এক ধরনের গন্ধ থাকে। নাকে এলে অস্বস্তি লাগে।’
মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানানো হয়েছে। তাঁর পরামর্শে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। সামাজিকভাবেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান হয়নি। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে খামারি মলিনা বেগম বলেন, তিনি নিজ বাড়িতে অল্প পরিমাণে মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে মুরগিগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, মুরগি পালনের প্রথম ২০ দিন তেমন দুর্গন্ধ থাকে না; শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এ সময়টুকু শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে পোল্ট্রি খামার পরিচালনার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁরা বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ প্রকাশঃ ০৩-১০-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=