শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা শ্রমজীবী পরিবারের মেধাবীদের স্বীকৃতি নতুন দৃষ্টান্ত– মিয়া গোলাম পরওয়ার

মাদক-দুর্নীতি থেকে দূরে থেকে নৈতিকতার ভিত্তিতে জীবন গড়ার আহ্বান

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান ==========বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমজীবী মানুষের ঘরেও মেধাবী সন্তান তৈরি হয়। তারাও রাষ্ট্র ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার অধিকার রাখে। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের মেধার স্বীকৃতির নতুন দৃষ্টান্ত।

গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত,
এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় এ+ প্রাপ্ত শ্রমিক পরিবারের কৃতী সন্তানদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রায় ৫৭ বছরের পথচলায় শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দরিদ্র শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের মেধা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। যেসব পরিবারের একবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন, তাদের সন্তানরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ না পেয়েও মেধা ও পরিশ্রমে কৃতিত্ব অর্জন করছে। তাদের ঢাকায় এনে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,
আজকের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে তোমাদের বাবা-মায়ের কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ। তারা নিজেদের প্রয়োজন বিসর্জন দিয়ে তোমাদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই জ্ঞান, নৈতিকতা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে দেশ পরিচালনার উপযুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যারিস্টার, বিচারক, প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি তৈরি হতে পারে। তাই মাদক, দুর্নীতি, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে নিজেদের দূরে রেখে সততা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে জীবন গড়তে হবে।
শ্রমজীবী অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তান মাদকাসক্ত নয়, সন্ত্রাসী নয়, অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়—এটাই একজন বাবা-মায়ের বড় অর্জন। অর্থ-সম্পদের চেয়ে সৎ ও যোগ্য সন্তানই শ্রেষ্ঠ সম্পদএবং তারা গর্বিত হওয়ার অধিকার রাখেন।
শ্রমজীবী পরিবারের আর্থিক কষ্ট তুলে ধরে তিনি বলেন, অভাব থাকলেও বাবা-মা সন্তানদের তা বুঝতে দেননি। নিজেদের কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে গড়ে তুলেছেন। সন্তানের মেধার স্বীকৃতিই তাদের সবচেয়ে বড় সম্মান।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট, জুলুম ও মানুষের অধিকার হরণের পরিবেশ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। ন্যায়, ইনসাফ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সুন্দর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যে কাজ করে যাচ্ছে, তা এগিয়ে নিতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন,
শ্রমিকের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের দায়িত্বভার বহনের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কাজ করছে।
অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক বাবা-মা নিজেদের প্রয়োজন ও চিকিৎসার খরচ কমিয়ে সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় বহন করেন। অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত বই-খাতা, পড়ার টেবিল কিংবা উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়েও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে এসেছে।
তিনি বলেন, সমাজে এমন একটি বৈষম্যমূলক ধারা তৈরি হয়েছে—রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে। এই প্রথা ভেঙে কৃষক, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানদের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে দেশের নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে হবে। শ্রমিকের সন্তানদের সংবর্ধনা দিতে প্রকৌশলী, আইনজীবী ও সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আতিকুর রহমান বলেন, জীবনের প্রতিকূলতায় কখনো হার মানা যাবে না। ইসলাম কর্ম ও পরিশ্রমকে গুরুত্ব দিয়েছে। শ্রমিক পরিবারের সন্তান হিসেবে নিজেদের বাবা-মায়ের সংগ্রামকে ধারণ করে অর্জিত সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন অভিভাবক হিসেবে তাদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও মেধার বিকাশে কাজ করে একটি নতুন সামাজিক ধারা সৃষ্টি করবে।

কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক লসকর মোঃ তসলিম ও কেন্দ্রীয় সহ-সাধারন সম্পাদক
অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন এর যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির
বক্তব্য রাখেন,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.ইলিয়াস মোল্লা এমপি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ।
এ ছাড়া মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে ছিলেন দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. বিলাল হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান আল বান্না, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ।
আরও বক্তব্য রাখেন
কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খাঁন,
কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, কবির আহমদ, মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, প্রমুখ, পরিশেষে
কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সারাদেশ থেকে একশত তিপ্পান্ন জন ছাত্রছাত্রী প্রত্যেকের নামসহ ক্রেস্ট এবং শিক্ষাবৃত্তি নগদ টাকা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। সংবাদ প্রকাশঃ ৩০-০৯-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন