পঞ্চগড় জেলা শ্রমিক কল্যাণের প্রতিনিধি সম্মেলন সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান ================বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে শ্রমিক-কৃষকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং শ্রমজীবী ও কৃষিজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
পঞ্চগড় জেলা চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জেলা শাখার আয়োজিত শ্রমিক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন অনিবার্য’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন আদর্শিক কারণে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে প্রকাশ্যে মাঠে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তবে নতুন বাংলাদেশে কাজের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আদর্শিক অবস্থান থেকে কোনো সংগঠন শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করলে এবং শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করতে পারলে আদর্শহীন শ্রমিক সংগঠনের প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, গত আড়াইশ বছর ধরে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’, ‘শ্রমিক রাজ কায়েম কর’—এ ধরনের স্লোগান উচ্চারিত হলেও বাস্তবে শ্রমিকের অধিকার কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটিই এখন প্রশ্ন। বিভিন্ন দেশে সমাজতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত অধিকার নিশ্চিত হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফেডারেশনের সভাপতি আরও বলেন, গত ৫৫ বছর ধরে বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের মূলধারা থেকে তাদের দূরে রেখে একটি শ্রেণি শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। বারবার ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। নেতাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিকের অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো কেন আন্দোলন করতে হবে? নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি পুনর্নির্ধারণের কথা থাকলেও তা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি। কোনো মালিক শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ না করলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অথচ ন্যায্য অধিকার আদায়ে শ্রমিকেরা রাজপথে নামলে অনেক সময় নিপীড়নের শিকার হন।
পঞ্চগড়ের কৃষকদের প্রসঙ্গ তুলে আতিকুর রহমান বলেন, পঞ্চগড় কৃষিনির্ভর এলাকা। কৃষকেরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি বজ্রপাতের ঝুঁকি নিয়েও ফসল উৎপাদন করেন। অথচ তারা উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, একজন কৃষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে অনেক সময় বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। বার্ধক্যেও তার দায়িত্ব রাষ্ট্র যথাযথভাবে নেয় না। সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা থেকেও কৃষকেরা বঞ্চিত। তাদের উৎপাদিত পণ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবসার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে—এমন অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের পরিবর্তন হয় না। তারা সব সময় বহাল তবিয়তে থাকে। ডিলার সিন্ডিকেট, সার ও তেলের কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো হচ্ছে। এসব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আতিকুর রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেট ভেঙে শ্রমিক-কৃষকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ন্যায্য মজুরি, পণ্যের ন্যায্যমূল্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতের পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে।’
সম্মেলনে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রব্বানী। জেলা সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়ার সভাপতিত্বে এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বাদল, কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক ড. জিয়াউল হক এবং জেলা উপদেষ্টা মো. দেলোয়ার হোসাইন। সংবাদ প্রকাশঃ ২৮-০৯-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=